সদর উপজেলার লক্ষ্মী নারায়ণপুর এলাকায় বায়ার কোম্পানির উচ্চ ফলনশীল ও বিএলবি (পাতা পোড়া) রোগ সহনশীল ‘অ্যারাইজ এ জেড ৬৫৮৫ এসটি’ ধানের এক সফল মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিকেলে স্থানীয় প্রায় ২০০ জন উৎসুক কৃষক-কৃষাণীর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মাঠদিবসে নতুন এই জাতের ধানের বাম্পার ফলন দেখে স্থানীয় চাষিদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
কৃষিবিদ এবং বায়ার কোম্পানির যশোর অঞ্চলের কমার্শিয়াল ম্যানেজার চন্দন কুমার মিত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জনি খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফরিদপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুব্রত কুমার রায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন-বায়ার কোম্পানির স্থানীয় পরিবেশক মেসার্স মহিউদ্দিন ট্রেডার্স-এর প্রোপাইটর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সরদার। কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুর রহমান এবং বায়ার কোম্পানির ফিল্ড অফিসার হামিদুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ ধরনের উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ বাড়ানো জরুরি। বায়ার কোম্পানির এই নতুন জাতটি দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বড় ভূমিকা রাখবে।”
মাঠ দিবসে বক্তারা বলেন,-‘অ্যারাইজ এ জেড ৬৫৮৫ এসটি’ জাতটি একটি অত্যন্ত উচ্চ ফলনশীল এবং ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (BLB) বা পাতা পোড়া রোগ প্রতিরোধী। প্রচলিত সাধারণ জাতের ধানের তুলনায় এই জাতের রোগবালাই যেমন কম, তেমনি ফলনও অনেক বেশি। এই জাতটির হেক্টর প্রতি গড় ফলন প্রায় ১১ মেট্রিক টন, যা দেশের সামগ্রিক ধান চাষে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে এই ধান চাষের সঠিক নিয়মাবলী ও পরামর্শ প্রদান করেন।
পড়ুন : নওগাঁ বিশ্ববদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা


