রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে গোলাম মোস্তফা নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ হাসিবুল ইসলাম। তিনি মতিহার থানার ডাঁশমারী এলাকার মৃত রমজান মোল্লার ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে মতিহার থানাধীন ডাঁশমারী এলাকা থেকে হাসিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মোঃ গোলাম মোস্তফার সঙ্গে আসামিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও একাধিক মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। সেই পূর্ববিরোধের জেরে আসামিরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফা এশার নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। তিনি খোঁজাপুর এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির খোসা ও অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসাঃ নাজেরা বেগম বাদী হয়ে মতিহার থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ তা আমলে নিয়ে হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা রুজু করে। মামলার পর থেকেই জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
আরএমপি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমাস আল রাজী ও তাঁর টিম ডাঁশমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি হাসিবুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মহানগরীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।
পড়ুন- আনসার ও ভিডিপি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক বাহিনীতে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী


