নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাত্র ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা চালক মো. মুমিন (৪০)কে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন খেটে খাওয়া মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ঘটনাটি নজরে আসে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান-এর। নিহত পরিবারের অসহায়ত্বের খবর পেয়ে শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে তিনি সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকায় নিহত মুমিনের বাড়িতে ছুটে যান।
এসময় তিনি নিহত মুমিনের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কথা শুনে নিহতের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন।
নিহতের স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মুমিন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এসময় এমপি মান্নান বলেন, “মাত্র সামান্য চাঁদার জন্য একজন শ্রমজীবী মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অমানবিক। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। অসহায় এই পরিবারকে একা ফেলে দেওয়া হবে না। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসা উচিত।”
এদিকে এমপি মান্নানের এমন মানবিক উপস্থিতি ও সহযোগিতায় কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পেয়েছে নিহতের পরিবার। স্থানীয়রাও তার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বর্বর ঘটনা কমে আসবে।
এসময় বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : কোনাবাড়ী বিএনপি নেতার কান্ড: হাটের অনুমতি পেয়েছে জরুন, হাট বসিয়েছেন বাঘিয়া


