নীলফামারীর সৈয়দপুরে কোরবানির পশু কাটার জন্য সৈয়দপুর থেকে শতাধিক কসাই ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ট্রেন ও বাসে করে অর্ধশতাধিক কসাই ঢাকা পৌঁছেছেন। কোরবানির তিন দিনে অন্তত ২০ লাখ টাকাও বেশি আয় করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ঈদের আগের রাতে অনেক কসাই বিমানে ঢাকায় যাওয়ার ও প্রস্তুতি নিয়েছেন।
কসাইরা জানান, কোরবানি ঈদ এর ১৫/২০ দিন আগেই ঢাকার অনেকেই সৈয়দপুরের কসাই বুকিং দিয়ে রেখেছেন। এ কারণে ঈদের ২-৩ দিন আগেই ঢাকায় সব কসাইকে পৌঁছাতে হবে। কন্ট্রাক হয়েছে হাজারে ৩০০/ ৪০০ টাকা দিতে হবে কসাইদের।
কাল্লু নামের এক কসাই জানান, এবারে শতাধিক কসাই ঈদে ঢাকায় গিয়ে কোরবানির পশুর মাংস কাটার কাজ করবেন। চারজন করে একটি গ্রুপে পশু কাটার কাজ করবেন তারা। তিনদিনে একেকটি গ্রুপ কমপক্ষে ১৬ গরু কাটতে পারবেন। এতে করে একেকটি গ্রুপ ৪ লাখ টাকা করে আয় করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
মজনু নামের অপর এক কসাই জানান, ২৩ মে রাতে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। অনেকে আবার ২৫ মে সকালে যাবেন ঢাকায়। কেউ কেউ ঈদের আগের দিন রাতে বিমানে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে জানান তিনি।
নাদের এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজার আলমগীর বলেন, আমার কাছে ১৫-২০ জন কসাই ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট চেয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ টিকিট নিয়ে গেছেন। সৈয়দপুর থেকে অনেক কসাই ঈদের আগের দিন বিমানযোগে ঢাকায় যাবেন বলে জানান বিমানের টিকিট বিক্রেতারা।
রাজধানীর উত্তরায় থাকেন তারেক নামের এক অবসরপ্রাপ্ত বিমান কর্মকর্তা। চাকরির সুবাদে তিনি সৈয়দপুরে ছিলেন দীর্ঘদিন। এ কারণে এশহরের অনেকেই তার পরিচিত। ঈদে কোরবানির মাংস কাটতে মোবাইলে সৈয়দপুরের একজন কসাইয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তার। ঈদের দিন সকালে উত্তরার বাসায় গিয়ে কোরবানির গরুর মাংস কাটতে হবে। বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা নেবেন কসাইকে।
সৈয়দপুর কসাই সমিতির সভাপতি মো. নাদিম ওরফে ছোটুয়া বলেন, সৈয়দপুরের মানুষ কসাইদের তেমন একটা মুল্যায়ন করেন না। একারনে ঢাকা মুখি হচ্ছে প্রায় সকলেই। ঢাকার মানুষ কোরবানির পশু কাটাতে হাজারে ৩০০ টাকা দেওয়ার কারনে ঈদের আগে কসাইশূন্য হয়ে যাবে সৈয়দপুর। এ শহরের মানুষ তাদের পশু কার দ্বারা কাটবেন বুঝতে পারছি না। সৈয়দপুরের মানুষ যদি হাজারে ১৫০ টাকা মাংস কাটা বাবদ দিতেন, তাহলে অর্ধেক কসাই ঢাকায় যেত না। তিনি আরো বলেন, কসাইদের ও উচিত ঈদের শুধু নিজের স্বার্থ না দেখে সৈয়দপুরবাসীর পাশে থাকা। নিজের স্বার্থ হাসিল করতে সৈয়দপুরবাসীকে বিপদে ফেলে ঢাকায় যাওয়া ঠিক হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
পড়ুন : রাজশাহীর আমের বাজারে বিক্রেতা আছে ক্রেতা নেই, আম ব্যবসায়ীদের মন্দা বাজার


