চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মরুর পশু দুম্বা পালন। শৌখিন ক্রেতাদের আগ্রহ ও লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় খামারিরা ঝুঁকছেন দুম্বা পালন ও প্রজননের দিকে। উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকার রূপালী এগ্রো লিমিটেড ও ভাটিয়ারীর জলিল গেট এলাকার ইউনিক গোট ফার্মে এখন দুম্বা দেখতে ও কিনতে ভিড় করছেন অনেকে।
দুই মণ ওজনের একটি দুম্বার দাম হাঁকা হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। এমন বড় আকৃতির দুম্বা দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় জমছে রূপালী এগ্রো লিমিটেডে। প্রতিষ্ঠানটিতে শুরুতে ছয়টি দুম্বা আনা হলেও প্রজননের মাধ্যমে বর্তমানে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে নয়টি।
অন্যদিকে, ইউনিক গোট ফার্মে গত এক মাসে ২৫টিসহ চলতি বছরে মোট ৫০টি দুম্বা বিক্রি হয়েছে। এসব দুম্বা বিক্রি করে প্রায় দেড় কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিক্রির জন্য কোনো দুম্বা না থাকলেও ৪৩টি দুম্বা প্রজননের জন্য রাখা হয়েছে, যা আগামী কোরবানির ঈদে বাজারজাত করা হবে।
খামারিরা জানান, টার্কি, আওয়াজি ও পারসিয়ান জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। ৪০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের একটি দুম্বার দাম প্রায় এক লাখ টাকা, যা একই ওজনের ছাগলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এমনকি তিন মাস বয়সী একটি দুম্বাও এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ একই বয়সী উন্নত জাতের ভেড়ার দাম সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকার বেশি নয়।
খামারিদের দাবি, ছাগল বা ভেড়ার তুলনায় দুম্বা পালনে লাভ প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। প্রতিটি দুম্বার পেছনে মাসে খাবার ও ওষুধ বাবদ খরচ হয় প্রায় আড়াই হাজার টাকা। তবে রোগবালাই কম হওয়ায় ঝুঁকিও তুলনামূলক কম।
ইউনিক গোট ফার্মের মালিক আদনান চৌধুরী জানান, তিনি ২০২১ সালে গাজীপুরের একটি রিসোর্ট থেকে নয়টি দুম্বা কিনে এনে খামার শুরু করেন। শুরুতে খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত কারণে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও পরে সফলতা আসে। তিনি বলেন, “অনেকে দুম্বাকে ভেড়া মনে করে কম দাম দিতে চান। কিন্তু দুম্বা আলাদা প্রাণী এবং এর মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। এ কারণে শৌখিন ক্রেতাদের একটি আলাদা বাজার তৈরি হয়েছে।”
রূপালী এগ্রো লিমিটেডের ম্যানেজার মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, তাদের খামারে বর্তমানে ৩৫০টি গরুর পাশাপাশি দুম্বা পালন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে মেহেরপুর থেকে দুটি পুরুষ ও চারটি স্ত্রী দুম্বা নয় লাখ টাকায় কেনা হয়। পরে দুটি মা দুম্বা থেকে আরও তিনটি বাচ্চা জন্ম নেয়। তিনি বলেন, “শুরুর দিকে দুম্বার খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা না থাকায় খরচ বেশি হতো। এখন দুম্বাগুলো সব ধরনের খাবারে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।”
সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়ুয়া জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ও যোগান কিছুটা কমেছে। তবে উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজার ২৩০টি পশু বেশি রয়েছে। ফলে কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না। উপজেলার ১২টি পশুর হাটে বেচাকেনা চলছে এবং ইজারা দেওয়া বাজারগুলো তদারকিতে বিশেষ টিম কাজ করবে।


