চরফ্যাশনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চরফ্যাশন শাখার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
রোববার (২৪ মে) সকালে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’র ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ চরফ্যাশনের আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবু জাফরের সভাপতিত্বে ও পরিচালক প্রভাষক বাহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গ্রাহক অধ্যাপক রেজাউল হাসান ইমরান, অধ্যাপক মামুন আলম, জহিরুল ইসলাম জাহের, মাহবুবুর রহমান বিএসসি, তামান্না আক্তার, মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের আস্থা, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে মো. ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করা প্রয়োজন। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে এবং ব্যাংকের কার্যক্রমে ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানকে ‘জোরপূর্বক পদচ্যুত’ করা যাবে না এবং ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের যেকোনো ‘পাঁয়তারা’ বন্ধ করতে হবে। সাধারণ আমানতকারী এবং দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বিষয়ে কথা বলতে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এ দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের ওপর, বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে বড় রিটেইল ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’-এর ওপর যে নগ্ন থাবা ও লুটপাট চালানো হয়েছিল, তা আমাদের সবার জানা। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনীতি যখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, ব্যাংকগুলো যখন গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে—ঠিক তখনই আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ইসলামী ব্যাংকিং খাতের ওপর আবারও নতুন করে এক ধরনের অশুভ আঁতাত ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের প্রশ্ন আমরা যদি রক্তঘাম জরা কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে রেখে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে না পারি, আমাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে যদি সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
এস আলম গ্রুপের মতো অসাধু চক্র যেভাবে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যাংকগুলোকে প্রায় দেউলিয়া করে দিয়েছিল, তার ক্ষত এখনো শুকায়নি। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং সেক্টরে নতুন কোনো বিশৃঙ্খলা বা নগ্ন থাবা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। এই সংকটময় মুহূর্তে আমরা বর্তমান সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—ইসলামী ব্যাংকের পেশাদার ও যোগ্য নেতৃত্বকে যেন রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সংকীর্ণ উদ্দেশ্যে বলির পাঁঠা বানানো না হয়। ইসলামী ব্যাংক যেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, ব্যাংকিং নিয়মনীতি ও নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে পরিচালিত হতে পারে, তার সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ব্যাংকের ভেতরের বা বাইরের কোনো অশুভ চক্রের চক্রান্তে যদি সাধারণ গ্রাহকের আমানত আবারও ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে সচেতন জনগণ ঘরে বসে থাকবে না। ইসলামী ব্যাংকের পবিত্রতা রক্ষা করতে এবং সাধারণ মানুষের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সাধারণ গ্রাহক ও দেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।’
ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।
মানববন্ধনে চরফ্যাশনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েকশ গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ


