পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশিকা জারির ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের জেলায় জেলায় চালু হয়ে গেল হোল্ডিং সেন্টার। একদিন যেতে না যেতেই সেই হোল্ডিং সেন্টারে আটক করা হলো ১২ জন সন্দেহজন বাংলাদেশি নাগরিককে। মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলার দুই হোল্ডিং সেন্টারে ঠাঁই হয়েছে তাদের।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের দুই সপ্তাহের মাথায় ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র দপ্তর।পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হওয়া বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রত্যর্পণ বা নিজেদের দেশে ফেরৎ পাঠানোর প্রক্রিয়া ঠিক করতে প্রতিটি ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেয় শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার।
গত ২৩ মে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ফরেনার্স ব্রাঞ্চ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকের কাছে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। এরপরেই শুরু হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার চালু ও ধরপাকড়ের প্রক্রিয়া।
মালদা জেলার ইংরেজবাজারের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে ৯ বাংলাদেশিকে। ধৃত সন্দেহভাজন বাংলাদেশির মধ্যে ৩ নারীসহ ৬ জন নাবালক ও নাবালিকা আছে। জানা গেছে, এই ৯ বাংলাদেশিকে গাজোল মহাকুমার পান্ডুয়া এলাকা থেকে থেকে ধরে আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃতদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর দেখা যায় তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। ধৃতরা স্বীকার করেন, তাদের বাড়ি বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের মিঠাপুকুর এলাকার একটি গ্রামে। ধৃতদের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা, তিনজন নাবালক এবং তিনজন নাবালিকা রয়েছে। রোববার (২৪ মে) বিকেল নাগাদ তাদের আটক করে পুলিশ। এরপরেই তাদের হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পান্ডুয়াতে ছিল। হিলি সীমান্ত দিয়ে তারা পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করেছিল।
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের লালগোলার পদ্মাভবনের তিনতলায় যে হোল্ডিং সেন্টারটি গড়ে উঠেছে, সেখানে রয়েছেন ৩ জন বাংলাদেশি পুরুষ। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। আটককৃত ব্যক্তিদের নাম মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ রুবেল ও শরিফুল ইসলাম। পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতে থাকার কোনও বৈধ নথি তাদের কাছে মেলেনি। তবে তাদের বাংলাদেশি পরিচয়ের বিষয়ে বিস্তারিত পরিচয় বা অন্য কোনও তথ্য এখনও জানা যায়নি।
পড়ুন : ভারতের উত্তরপ্রদেশে রাস্তায় ঈদের নামাজ ও প্রকাশ্যে কোরবানিতে নিষেধাজ্ঞা


