বিজ্ঞাপন

গাজায় নেই ঈদের আনন্দ

গাজার মানুষের জন্য ঈদ আনন্দ এখন কেবলই এক স্মৃতি। টানা তৃতীয় বছরের মতো কোরবানি ও ঈদের আনন্দ ছাড়াই সময় পার করতে হচ্ছে গাজাবাসীকে। ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা, কঠোর অবরোধ এবং তীব্র খাদ্য সংকটের কারণে এই বিপর্যস্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ফলে গাজার গবাদি পশু খাত পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যাপক পশু সংকট ও তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে উপত্যকাটির অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই এবার ঈদে কোরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে ইসরায়েলি অবরোধ ও কৃষিখাত ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক খাদ্য সংকটে ভুগছে গাজাবাসী। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডব্লিউসিকে) গাজায় তাদের খাদ্যসহায়তার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে দিয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ (জনসংখ্যার ৭৭ শতাংশ) তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় গাজাবাসীর খাদ্য সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর মধ্যে গবাদি পশু খাতের ধ্বংস বিপর্যয় ডেকে এনেছে খামারি, কসাই ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জীবিকায়ও। সংবাদ মাধ্যম মিডলইস্ট আইয়ের খবর অনুযায়ী, অনেক পরিবার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মাংস মুখে দেয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাজায় বর্তমানে কোনো জীবন্ত পশু ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতি বছর ঈদের মৌসুমে ৪০ থেকে ৬০ হাজার গবাদি পশু আনা হতো, সেখানে এখন গাজার বাজারগুলো সম্পূর্ণ পশুশূন্য। মিডলইস্ট আই বলছে, ঈদে কোরবানি করার যে আনন্দ, পশু সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে গাজাবাসীর জীবন থেকে সেটি বিলীন হয়ে গেছে। তার ওপর নতুন করে খাদ্য সংকট বেড়ে যাওয়ায় আরও মলিন হয়েছে গাজাবাসীর ঈদ আনন্দ।

গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটির গবাদি পশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাও (এফএও) জানিয়েছে, চলমান সংকটে গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল এরই মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে গাজায় একটি মাঝারি আকৃতির ভেড়ার দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার। অথচ বর্তমানে অলৌকিকভাবে টিকে থাকা দুয়েকটি ভেড়ার দাম হাঁকা হচ্ছে ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত। স্থানীয় খামারি মাজেন আল জেরজাউই আক্ষেপ করে বলেন, একটা ভেড়ার দাম এখন এত বেশি যে, তা দিয়ে গাজায় একটি বিয়ে পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। পরিবারকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ের মধ্যে মানুষ গবাদি পশুর যত্ন কীভাবে নেবে?

ডব্লিউসিকের খাদ্যসহায়তা সংকোচন
অবরুদ্ধ গাজার মানবিক সংকট যখন ভয়াবহ, ঠিক তখনই সেখানে খাবার বিতরণের পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে ডব্লিউসিকে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে সংস্থাটির দৈনিক খাবার প্রস্তুতের পরিমাণ ১০ লাখ থেকে কমিয়ে ৫ লাখ করা হয়েছে।

ত্রাণবহরে ইসরায়েলি নির্যাতন, আইসিজেতে যাওয়ার প্রস্তুতি মালয়েশিয়ার
গাজাগামী মানবিক ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় হামলা, যাত্রীদের আটক এবং তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলা চালিয়ে শত শত অধিকারকর্মীকে আটক করার পর, সম্প্রতি তাদের মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল।

মুক্ত হওয়া চার শতাধিক মানবাধিকার কর্মীর অনেকেই নিজ দেশে ফিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। মেলবোর্ন বিমানবন্দরে পৌঁছে অস্ট্রেলীয় অধিকারকর্মী ভায়োলেট কোকোসহ অন্য ভুক্তভোগীরা জানান, ইসরায়েলি হেফাজতে তাদের হাত-পা ভেঙে দেওয়া, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং শ্লীলতাহানির মতো ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। এমনকি অসুস্থ রোগীদের ইনসুলিন ও প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধও নিতে দেওয়া হয়নি।

এই বর্বর ঘটনার জেরে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। দেশটির সেলাঙ্গর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আমিরুদিন শারি বলেন, মালয়েশীয় মানবাধিকারকর্মীদের অপহরণ ও তাদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করব।

দেখুনঃবাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান

পড়ুনঃইরানের খেলায় বেকায়দায় যুক্তরাষ্ট্র

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন