জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের পরিচিত মুখ মোঃ শাহজামাল সেক। সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই রাজনৈতিক কর্মী দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল মানুষের পাশে থেকে অর্জন করেছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও আস্থা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সততা, সাহসিকতা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে শাহজামাল সেককে দেখতে চান তারা।
ঈদকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছেন শাহজামাল সেক। তার ঈদ শুভেচ্ছা বার্তাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন শাহজামাল সেক। তার বাবা নুরুল ইসলাম ছিলেন দেওয়ানী এলাকার প্রভাবশালী মাতবর ও সমাজসেবক। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় খুব বেশি অগ্রসর না হলেও সমাজ পরিচালনা ও মানুষকে অনুপ্রাণিত করার অসাধারণ দক্ষতা ছিল তার। ২০০০ সালে বাবার মৃত্যুর পর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন শাহজামাল।
আট ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম শাহজামাল সেক ২০০১ সালে বিএনপির রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন নিবিড় সম্পর্ক। ২০১০ সালে চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন যুবদলের সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সালে বিপুল ভোটে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও হয়রানিরও শিকার হতে হয়েছে তাকে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ইসলামপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মুখোমুখি হন শাহজামাল সেক। তবুও সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে পারিবারিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধই একজন মানুষকে বড় করে তোলে— যার বাস্তব উদাহরণ শাহজামাল সেক। উচ্চশিক্ষিত না হলেও তিনি ডিগ্রীরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনবারের নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জামিয়া মফিজিয়া ডিগ্রীরচর মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে শিক্ষানুরাগী হিসেবেও সাধারণ মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছেন তিনি।
বাবার আদর্শকে ধারণ করে সবসময় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন শাহজামাল সেক। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে।
বর্তমানে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে শাহজামাল সেক বলেন, “আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চাই। জনগণ চাইলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করবো, ইনশাআল্লাহ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের তৃণমূল রাজনীতি, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে শাহজামাল সেক ইতোমধ্যেই চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের আলোচিত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের একজন হয়ে উঠেছেন।
পড়ুন : সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে গাজীপুরে উদযাপিত হলো ঈদুল আযহা


