যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন থমকে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নামার পর নিরাপদ বিনিয়োগের এই মাধ্যমটির দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার আরও বাড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা গেছে।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৪টা ২২ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০৫ দশমিক ৫৭ ডলারে পৌঁছায়। তবে সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় দশমিক ১ শতাংশ কম রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন বাজারে স্বর্ণের ফিউচারস সরবরাহ মূল্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বিগত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাড়ানোর খবর জানাজানি হওয়ার পর বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।
গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বাজারের এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, গতকালের বাজারে আমরা দেখেছি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে নেমে গিয়েছিল এবং ধারণা করা হচ্ছিল এটি হয়তো আরও কমবে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত অগ্রগতির ঘোষণার পরপরই দামের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো প্রবণতা দেখা যায় এবং আজ সকালেও বাজার সেই স্থিতিশীল অবস্থাই ধরে রেখেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, বাজার এখন চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের ওপর ঝুলে আছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের চলমান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, খসড়া চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত নয় এবং এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর বাকি রয়েছে, তবুও এই কূটনৈতিক তৎপরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

