বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কেবল একজন সেনাপ্রধান বা রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘জন্মগত নেতা’। সততা, দেশপ্রেম, সাহসিকতা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
শনিবার (৩০ মে) নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জিয়াউর রহমানের সামরিক জীবনের সাহসিকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে মাত্র ২০-২২ বছর বয়সে একজন তরুণ অফিসার হিসেবে জিয়াউর রহমান যে রণকৌশল ও সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তার জন্য তিনি বীরত্বপূর্ণ উপাধিতে ভূষিত হন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন মেজর জিয়াউর রহমান নিজের জীবন ও পরিবারের কথা চিন্তা না করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আই রিভোল্ট’। মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে তিনি জাতিকে স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।”
মুক্তিযুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান পুনরায় ব্যারাকে ফিরে গেলেও, দেশের ক্রান্তিলগ্নে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “একদলীয় শাসনব্যবস্থার অন্ধকার থেকে দেশকে মুক্ত করে জিয়াউর রহমানই সর্বপ্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আজ দেশে যে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসছে, তার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। দেশের কৃষি বিপ্লবের জন্য খাল খনন কর্মসূচি থেকে শুরু করে চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সফল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে তার অবদান অনস্বীকার্য।”
রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় জিয়াউর রহমানের সাদামাটা জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থে একজন সৎ মানুষ। রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া ভাঙা স্যুটকেস ও ছেঁড়া শার্টই প্রমাণ করে, তিনি দেশের সম্পদ নিজের জন্য ব্যবহার করেননি। সীমিত আয়ে নিজের সংসার চালানো এবং রাষ্ট্রপতির পোশাক হিসেবে সাধারণ শার্ট পরা তার সততারই নিদর্শন।”
বক্তব্যের শেষাংশে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি দিকনির্দেশনামূলক আহ্বান জানান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, “অনেকেই না বুঝে বা শুধু সরকারি দলের বিরোধিতা করার জন্য ‘হুযুগে’ বিএনপি করেন। কিন্তু যারা প্রকৃত রাজনীতি করতে চান, তাদের উচিত জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নেওয়া। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, ছিলেন একজন আদর্শ মানুষ।”
নেতাকর্মীদের শুধু রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, বরং শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করা হয়। মঞ্চে এসময় দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


