গতকাল সন্ধ্যায় যিনি মানুষের মাঝে ছিলেন, হাসিমুখে কুশল বিনিময় করেছেন, তুলেছেন স্মৃতিমাখা সেলফি- আজ সেই মানুষটিই শুয়ে আছেন শেষ বিদায়ের খাটিয়ায়। জীবনের নির্মম বাস্তবতার সাক্ষী হলো নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের মানুষ।
শনিবার (৩০ মে) সকালে তার জানাজায় অংশ নিতে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। গতকাল (শুক্রবার) রাতে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কৈলাটী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন।
শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কৈলাটি জনতা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা ও মাগফিরাত কামনা করেন মহান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। এছাড়া কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী এবং এলাকার শোকাহত মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার সন্ধ্যাতেও তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত। এদিন তিনি সিধলী বাজারে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি মহোদয়ের সাথে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। বাজার পরিদর্শনের এক ফাঁকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে নিজের মোবাইল ফোনে সেলফি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।
কিন্তু কে জানতো, সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া হাসিমাখা এই মুহূর্তটাই হয়ে থাকবে তার জীবনের শেষ স্মৃতি! গতকালও যিনি সহকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, আজ সেই মানুষটিকে চিরবিদায় জানাতে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন সবাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত গভীর হওয়ার পর হঠাৎ করেই হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হন জয়নাল আবেদীন। চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
মরহুম জয়নাল আবেদীনের বাড়ি কৈলাটি ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও রাজনৈতিক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার অকাল প্রয়াণে পরিবারে চলছে শোকের মাতম, আর রাজনৈতিক সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা।
পড়ুন- সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দেশ গঠনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


