ক্ষমতা থেকে সরে যেতেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যার বেশিরভাগই দুর্নীতি, গুন্ডামি ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্যজুড়ে অভিযান চালিয়ে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজ্যজুড়ে গ্রেপ্তার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের শতাধিক নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে কারো বাড়ি থেকে উদ্ধার হচ্ছে নগদ অর্থ, কাউকে জেরা করে মিলছে চাষের জমিতে পুঁতে রাখা মূল্যবাদ সম্পদ, আবার কারোর থেকে মিলেছে রীতিমতো যুদ্ধে যাওয়ার মতো অস্ত্রশস্ত্র।
সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহা ও সুজিত সাহা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা বনগাঁর মছলন্দপুর এলাকায় গোপন অভিযানে বুধবার তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তার করতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া পুলিশের।
সুজিতের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ২৭ লাখ রুপি। তৃণমূল নেতৃত্ব হিসাবে অর্থের পরিমাণ খুব বড় না হলেও চাঞ্চল্যকরভাবে মিলেছে ৬০০-এর উপরে লাইভ কার্তুজ, ৬১টি ব্যবহার করা গুলির খোল এবং ৫২ বোতল বিদেশি দামি মদ। এছাড়া মিলেছে একটি স্পোর্টস শুটিং বন্দুক ও একটি স্মল শট গান। এ যেন রীতিমতো যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি। স্থানীয় প্রভাবশালী এই দুই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে দশ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
তবে অন্যতম চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারের ঘটনা। গত রোববার বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যানের বাগানবাড়িতে আচমকাই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। এলাকাবাসীরা আগুনের উৎস দেখতে গেলে জানা যায় বাগানবাড়িতে পুরোনো পৌরসভার নথি পোড়াচ্ছে চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সঙ্গে সঙ্গে খবর যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে পালিয়ে যান চেয়ারম্যান। এরপর গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সেই বাগানবাড়িতে তল্লাশি চালালে উদ্ধার হয় চার হাজার সরকারি ত্রিপল এবং ৮০ লাখ রুপি।
এরপর সোমবার গোপন ডেরা থেকে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে রীতিমতো গুপ্তধনের সন্ধান দেন দীপঙ্কর। তার তথ্য ধরে বুধবার দীপঙ্করের বাড়ির পাশের পাটখেতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় অন্তত চার বস্তা নগদ অর্থ ও এক ট্রলি বোঝাই সোনা। যে টাকা বা সোনার আর্থিক মূল্য বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যাচাই করে উঠতে পারেনি তদন্তকারীরা।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রয় প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা ‘ডন, বাহুবলি’দের। অনেকের বিরুদ্ধে খুন সন্ত্রাসসহ বিগত ১৫ বছরে জমা পড়েছে শত শত অভিযোগ। তাদের একে একে হেফাজতে নিতে শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ।
পড়ুন : হরমুজে আটকা ১৩টি জাহাজ ফিরিয়ে আনতে জরুরি অভিযান ভারতের


