নেত্রকোনার সীমান্তঘেঁষা কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশেমের একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফাঁস হওয়া ওই অডিও বার্তায় তিনি বর্ডার বা সীমান্ত এলাকার পুলিশের চাকরিকে ‘এক ধরনের ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অধস্তন পুলিশ সদস্যদের সাথে কথোপকথনের এই রেকর্ডে থানার অভ্যন্তরীণ আর্থিক লেনদেন, টাকার ভাগবাটোয়ারা এবং নিজের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব নিয়ে তাকে খোলামেলা কথা বলতে শোনা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে ওসি আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, বর্ডার এলাকায় পুলিশের চাকরিটি মূলত এক প্রকার ব্যবসার মতো। যারা এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত, তাদের ব্যবসার মতোই তা পরিচালনা করতে হবে। তিনি অধস্তনদের কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, ওসির মাথার ওপর দিয়ে বা তাকে পাশ কাটিয়ে কোনো কাজ করা যাবে না। সবাইকে অবশ্যই সমন্বয় করে চলতে হবে।
অডিওতে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে ওসিকে বেশ আত্মবিশ্বাসী শোনা যায়। টাকার ভাগবাটোয়ারায় তিনি কাউকে ঠকাবেন না- এমন নিশ্চয়তা দিয়ে অধস্তনদের তিনি আশ্বস্ত করেন, “যার যেটা অধিকার বা প্রাপ্য, সে যেন অবশ্যই সেটা পায়।”
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অবৈধ লেনদেনের ভাগাভাগি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি ধর্মীয় অনুভূতিরও অবতারণা করেন। তিনি বলেন, তিনি কারও হক মারা পছন্দ করেন না। যে অন্যের হক মারে, রাসূল (সা.) তার জন্য শাফায়াত করবেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, কোনো কাজ করে গোপন বা ‘গুপ্ত’ ভাবে টাকা নেওয়ার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান জানান তিনি। সম্প্রতি একটি মামলার উদাহরণ টেনে ওসি জানান, তাকে না জানিয়ে গোপনে টাকা নেওয়ার মতো চালাকি যেন কেউ না করে।
ওসি আবুল হাশেম অডিওতে দাবি করেন, তার কার্যক্রমে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। কথোপকথনে তিনি ‘এসপি স্যার’ তার প্রতি খুব খুশি বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, থানায় কর্মরত পুরোনো বা অবাধ্য পুলিশ সদস্যদের (যাদের তিনি ‘খারাপ’ বলে আখ্যা দেন) অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার বা বদলি করার ক্ষমতা তার রয়েছে বলেও পরোক্ষভাবে হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, এক হাজার বা দুই হাজার টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে তিনি নিজেই ঝুঁকি নিয়ে সব পার করে দিচ্ছেন, তাই অধস্তনদের এ নিয়ে কোনো ‘টেনশন’ বা দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া অডিওটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে কলমাকান্দা থানার ওসি আবুল হাশেম এর দায় পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই অডিও বা কথোপকথনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এমন কোনো কথা কাউকে বলেননি।
তিনি বলেন, “কারা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি বানিয়েছে তা আমার জানা নেই। অবৈধ কাজ করে না দেওয়ার ফলেই আমাকে এভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে এবং দোষ চাপানো হচ্ছে।” তাকে পছন্দ না করার কারণেই কুচক্রী একটি মহল হেয় করার উদ্দেশ্যে এমনটি করছে বলে তিনি মনে করেন।
ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন ওসি আবুল হাশেম। তবে অডিও ফাঁসের ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কীভাবে খতিয়ে দেখছে, এখন সেদিকেই নজর সবার।
পড়ুন : জিয়াউর রহমান চির প্রাসঙ্গিক, তার আদর্শেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ : সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স


