বিজ্ঞাপন

ঈদ শেষে কর্মস্হলে ফিরছে উত্তরের মানুষ, মহাসড়কে স্বস্তির যাত্রা, নেই যানজট, অভিযোগ অতিরিক্ত ভাড়ার

ঈদের আনন্দ, প্রিয়জনের সান্নিধ্য ও গ্রামের নির্মল পরিবেশকে পেছনে ফেলে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনের টানে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছেন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষ। তবে এবারের ফিরতি যাত্রায় যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে নেই যানজটের ভোগান্তি, নেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার দুর্ভোগ। স্বস্তি ও স্বাভাবিক গতিতেই গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন যাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার ( ১ জুন) সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়, সলকা ও হাটিকুমরুল এলাকায় ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ ঢাকামুখী হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও যানজট দেখা যায়নি।

কড্ডার মোড় এলাকায় মোটরসাইকেল চালক রবিন শেখ বলেন, পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছি। মহাসড়ক ফাঁকা থাকায় কোনো ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে যাত্রা করতে পারছি।

প্রাইভেটকার চালক নাসির উদ্দিন জানান, গাজীপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে নাটোরে ঈদ করতে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে মহাসড়কে কোনো যানজট না থাকায় নির্ধারিত সময়েই যাত্রা সম্পন্ন করতে পারছেন।

কাজিপুরের সলকা মোড়ে গাজীপুরগামী কয়েকজন নারী যাত্রী শিরিন খাতুন, মরিয়ম বেগম, সাকেরা ও সকিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফিরতে বাস ভাড়ায় অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। যাওয়ার সময় যেমন বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে, ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ঢাকার মিরপুরে কর্মরত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবার নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছি। কিন্তু পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যাত্রীদের এই দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।

একই অভিযোগ করেন যাত্রী সুরাইয়া জাহান। তিনি বলেন, সকাল থেকে বাসের অপেক্ষায় রয়েছি। সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, এখন সেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সিট পাওয়া যাচ্ছে না।

ময়মনসিংহগামী যাত্রী আবুল কালাম বলেন, দাঁড়িয়ে গেলে ৫০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে, আর আসনে বসে যেতে চাইলে আরও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।

তবে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে এক বাসের সুপারভাইজার শাহিন শেখ বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হওয়ায় কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদ-পরবর্তী সময়ে ঢাকামুখী যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেতুর উভয় প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে ৩৫ হাজার ৩৯২টি যানবাহন। এতে ২ কোটি ৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা টোল আদায় হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছে।

ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার এই যাত্রায় একদিকে যেমন স্বস্তি মিলেছে যানজটমুক্ত মহাসড়কে, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নতুন করে ভোগান্তিতে ফেলেছে সাধারণ যাত্রীদের।

পড়ুন- বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন