বিজ্ঞাপন

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নয় তার স্ত্রী ঋণখেলাপি: বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম ঋণখেলাপি- এমন অভিযোগ নিয়ে চলা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, খুরশীদ আলম নিজে ঋণখেলাপি নন; তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণ খেলাপি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক খুরশীদ আলমের স্ত্রী। ওই ঋণ পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়েছে। ফলে খুরশীদ আলমকে ঋণখেলাপি হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়। তার স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হলেও খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন।

খুরশীদ আলমকে ঘিরে সম্প্রতি আরেকটি পুরোনো অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কৌশলে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ একটি অফিস আদেশ জারি করে।

ওই আদেশে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশনস-২০০৩-এর ৪৪(১)(বি) ধারা অনুযায়ী তার দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বন্ধ করা হয়।

তবে দীর্ঘ আট বছর পর ওই ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরিফ হোসেন খান বলেন, সে সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে তাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তা যথাযথ ছিল না। এ কারণেই পরে তিনি নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি পান।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক। কোনো ধরনের আন্দোলন বা চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না।

তিনি বলেন, আজ যদি কোনো পক্ষের আন্দোলনের কারণে একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরেকটি পক্ষ আরও বড় আন্দোলন করে অন্য সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি তুলবে। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতে পারে না।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনলাইন সভার অনুমতি প্রসঙ্গে আরিফ হোসেন খান বলেন, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল সভা আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অনুমতি দিয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং এতে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

উল্লেখ্য, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেবল ইনক্রিমেন্ট বন্ধের মতো শাস্তি দেওয়ায় সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগের পর পুরোনো অভিযোগগুলো আবারও সামনে এসেছে।

ঋণখেলাপির অভিযোগ এবং অতীতের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই খুরশীদ আলমকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ঋণখেলাপির তথ্য সঠিক নয় এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন