গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর-বড়ইবাড়ি সড়কের দুই পাশে জমে উঠেছে মৌসুমি রসালো ফলের বাজার।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে সারি সারি অস্থায়ী দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, জাম, তরমুজ, বাঙ্গি ও অন্যান্য মৌসুমি ফল।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা এসব দোকানে ভিড় করছেন।
সড়কের পাশে ফল বিক্রি করছেন রহিম মিয়া তিনি জানান, “বর্তমানে আম, কাঁঠাল ও আনারসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভালো বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা গাড়ি থামিয়ে ফল কিনে নিয়ে যান।”
আরেক ফল বিক্রেতা আলাল বলেন, “এ বছর ফলের সরবরাহ ভালো থাকায় বাজারও বেশ জমজমাট। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ফল বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের সংসার চালাতে সুবিধা হচ্ছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে দেশীয় জাতের গোপালভোগ, হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমের পাশাপাশি স্থানীয় কাঁঠাল, আনারস বিভিন্ন এলাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা পরিবারের জন্য একসঙ্গে কয়েক কেজি ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ক্রেতা রাকিব বলেন, “সড়কের পাশেই টাটকা ফল পাওয়া যাচ্ছে। দামও তুলনামূলক সহনীয়। তাই বাজারে না গিয়ে এখান থেকেই ফল কিনছি।”
আরেক ক্রেতা জনি জানান, “গরমের মধ্যে ফলের চাহিদা বেড়েছে। এখানে একসঙ্গে অনেক ধরনের ফল পাওয়া যায়, তাই পরিবারের জন্য নিয়মিত কিনে নিয়ে যাই।”
স্থানীয়দের মতে, মৌসুমি ফলের এই অস্থায়ী বাজার শুধু ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছে, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করেছে। ফলে সফিপুর-বড়ইবাড়ি সড়ক এখন ফল ব্যবসার অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, “বর্তমানে দেশে বিভিন্ন মৌসুমি ফলের ভরা মৌসুম চলছে। স্থানীয়ভাবে ফলের বাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও সহজে তাজা ও পুষ্টিকর ফল সংগ্রহ করতে পারছেন।”তিনি আরও বলেন, “দেশীয় ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো নিরাপদ ফল বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সড়কের পাশে গড়ে ওঠা এ ধরনের ফলের বাজার একদিকে যেমন স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখছে, অন্যদিকে মৌসুমি ফলের সহজলভ্যতাও নিশ্চিত করছে। তবে যানবাহন চলাচলে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নজরদারি প্রয়োজন।
পড়ুন : সড়কবাতি নিয়ে জ্ঞান অর্জন করতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক


