টাঙ্গাইলের সখীপুরে কিডনি রোগে আক্রান্ত এক প্রবাসীকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে। সারারাত রাস্তায় পড়ে থাকার পর তার ভাতিজি তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবাস ফেরত ওই ব্যক্তি উপজেলার কালমেঘা গ্রামে মৃত ফজর আলীর ছেলে জামাল উদ্দিন।
স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, প্রায় এক যুগ আগে জামাল উদ্দিন পৈতৃক ভিটাসহ সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে প্রায় ১২ বছর প্রবাস জীবন কাটানোর সময় উপার্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে দেশে পাঠাতেন বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি। প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরেন জামাল উদ্দিন। তাঁর কিডনি বিকল হওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। পরিবারের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে স্ত্রী ও সন্তানরা অনীহা দেখান।
স্বজনদের জানায়, গত শনিবার গভীর রাতে স্ত্রী ও সন্তানরা তাঁকে কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক ভিটার পাশে বোনজামাই আব্দুল গফুরের বাড়ির কাছের রাস্তায় রেখে চলে যান। তিনি সারারাত সেখানেই পড়ে ছিলেন। রোববার সকালে উৎসুক গ্রামবাসী তাঁকে দেখতে ভিড় করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হলে তাঁর ভাতিজি ইসমত আরা তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই আশ্রয়ে রয়েছেন জামাল উদ্দিন। ভাতিজি ইসমত আরার ভাষ্য, অসুস্থ চাচাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে আমার খারাপ লেগেছে। তাই তাকে আপাতত আমার বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি।
জামাল উদ্দিনের ভাই আব্দুল জলিল বলেন, প্রায় ১২ বছর আগে সে সব জমিজমা বিক্রি করে শ্বশুরবাড়িতে চলে যায়। বিদেশে যাওয়ার সময় আমার কাছ থেকেও চার লাখ টাকা ধার নিয়েছিল। পরে আর যোগাযোগ রাখেনি। টাকাও ফেরত দেয়নি। বিদেশে যা আয় করেছে, সব স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়া কোনোভাবেই মানবিক কাজ হয়নি।’জামাল উদ্দিনের পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে রায়হান একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের জবাবদিহির দাবি তুলেছেন।
বহুরিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, কিডনির সমস্যার কারণে জামাল হাঁটতে-চলতে পারেন না। একজন অসুস্থ মানুষকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়া খুবই অমানবিক ও নিন্দনীয়। যেহেতু তাঁর স্ত্রীর বাড়ি অন্য জেলায়, তাই স্থানীয়ভাবে বিচার করা কঠিন। তবে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাঁর চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে জামাল উদ্দিনের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
জামালের ছেলে আবু রায়হান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমার বাবাকে মা রাস্তায় ফেলে গেছে। মায়ের সঙ্গে আমারও সম্পর্ক ভালো না। মায়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও ভালো নয়। আমি গার্মেন্টসে শ্রমিক পদে কাজ করি। সামান্য বেতনে কোনরকমে সংসার চালাচ্ছি। অসুস্থ বাবার সঙ্গে এরকম অমানবিক আচরণ করা মোটেই ঠিক হয়নি। আমি মায়ের বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ওসি মুরাদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় বলে মনে হচ্ছে। তবে একজন অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যাওয়া অবশ্যই অমানবিক। স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পড়ুন : রাজশাহীতে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের অনুদানের অর্থ বিতরণ


