মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে গণপিটুনীতে এক সন্দেহভাজন চোরের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও পুলিশ দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোয় আটক ব্যক্তি উত্তেজিত জনতার হামলার শিকার হন। পরে তার মৃত্যু হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার(০২ মে) ভোর রাতে বামন্দী বাসস্ট্যান্ড এলাকার খোকন এন্টারপ্রাইজে চুরির উদ্দেশ্যে একটি চোরচক্র প্রবেশ করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া দিলে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। তবে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটক ব্যক্তিকে বেঁধে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা সময় নেয়। এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং জনতার একাংশ আটক ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। গণপিটুনীতে গুরুতর আহত ওই ব্যক্তি পরে মারা যান।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, সময়মতো পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিকে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চোরচক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারত।
খোকন এন্টারপ্রাইজের মালিকের ছেলে তুষার বলেন, পুলিশ ক্যাম্প থেকে ঘটনাস্থলে আসতে পাঁচ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। আরো বলেন, চোর নিহতের ঘটনায় কোন চক্রান্ত আছে বলে স্বীকার করেন। তিনি দাবী করেন, চোরকে আটকের পরপরই পুলিশকে খবর দেয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। এ সুযোগে জনগন চোরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
বামন্দী বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব মাত্র ৫ মিনিটের পথ। অথচ খবর পাবার ৪/৫ ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। ততক্ষণে হত্যার ঘটনাটি ঘটে। এটা নিছক পুলিশের দায়িত্ব অবহেলা। তিনি আরো বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে এ ধরনের ঘটনায় পুলিশকে আরও দ্রুত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষের হাতে আইন তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত নয়।
এ বিষয়ে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে দায়িত্বে থাকা একজন এএসআই বিষয়টি জানতে পেরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি সচেতন মহলে।
পড়ুন- দেশের ৪৯২ উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


