বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং এর চূড়ান্ত প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।
আজ (বুধবার) এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। জ্বালানি দাম বাড়লে স্বাভাবিক ভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ ব্যক্তি জীবনে যেমন দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে, তেমনি শিল্প কারখানায়, বাসাবাড়ী, কৃষি, গণপরিবহনসহ সব জায়গায় উৎপাদন খরচ বাড়বে। আর এগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়লে তার দায়ভার সর্বশেষ ব্যবহারকারী হিসাবে ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে। ফলে সব ধরনের মানুষের জীবন যাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যা মূল্যস্ফীতি উসকে দিবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সবে মাত্র ক্ষমতায় আসলো। আর ক্ষমতায় আসার পর পরই বিদ্যুতের দাম বাড়ায়, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েলের মতো সব ধরনের জ্বালানি দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ, শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে যুক্ত লোকজনের জন্য নেতিবাচক বার্তা প্রদান করা হলো। আর যে প্রক্রিয়ায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো, সেখানে ক্যাবসহ সব ধরনের লোকজন অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস, ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলো বন্ধ করার জন্য দাবি করলেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর খড়্গ নামানো হলো, যা খুবই দুঃখজনক। যেখানে বিভিন্ন দেশ ক্ষুদ্র প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য বিল মওকুফের কথা বলছে, সেখানে ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর ভর্তুকি কমানোর কথা বলে দাম বাড়ানোর বিষয়টি সমর্থন যোগ্য নয়। এর বাইরে বিশ্বব্যাপী যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে সরকারের সেরকম কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অর্থনীতির জন্য যা দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণের বিশাল বৈষম্য এবং গ্রামে বিদ্যুৎহীনতার কারণে একশ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ড দেশে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও সেখানে নানা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সক্ষমতার ঘাটতি সরকারের শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই এসমস্ত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান দরকার।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

