গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন পারিজাত এলাকায় ট্রান্সমিটারের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুইজনে দাঁড়িয়েছে। গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে মারা গেছেন স্থানীয় গাউছুল আজম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান (৫৬)। এর আগে ঘটনাস্থলেই নিহত হন কিশোর রবিউল ইসলাম (১৭)। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, গত ২৮ মে সকালে ঈদের নামাজ শেষে পারিজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারে ত্রুটি দেখা দেয়। একপর্যায়ে ট্রান্সমিটারের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে গেলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন রবিউল ইসলাম (১৭)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যুতায়িত তার শরীরে জড়িয়ে যাওয়ায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান, শিশু তালহা (১০) ও নিরব (১০)। আহতদের প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাবিবুর রহমান ও তালহার অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা যান মাওলানা হাবিবুর রহমান। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাউছুল আজম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং স্থানীয়দের কাছে একজন সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অপরদিকে আহত শিশু তালহা ও নিরব এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কোনাবাড়ী থানার এসআই বিশ্বজিৎ মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে আহত খতিবের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নতুন করে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন : তিন বছর ধরে ঘরে অবরুদ্ধ বৃদ্ধ বাবাকে যেতে দিল না মায়ের জানাজায়, অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে


