“প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হও, জলবায়ুর জন্য ও আমাদের ভবিষ্যতের জন্য”- সময়োপযোগী এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনার আমতলা ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের উদ্যোগে পরিবেশ প্রেমীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ, সম্মাননা প্রদান ও এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টায় এ অনুষ্ঠানে বিশ্বনাথপুর ও পার্শ্ববর্তী গাছগড়িয়া গ্রামের কৃষাণী, যুবসমাজ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল, বিশ্বনাথপুর গ্রামের ১০ জন নিভৃতচারী পরিবেশপ্রেমীকে সম্মাননা প্রদান। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রাপ্তি বা স্বীকৃতির আশা না করেই কৃষকরা বছরের পর বছর ধরে জলবায়ু সংকট মোকাবেলা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় নীরব ভূমিকা পালন করে আসছেন। অনুষ্ঠানে তাদের অসামান্য অবদানের কথা সকলের সামনে তুলে ধরা হয় এবং স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ১০ জন পরিবেশপ্রেমী এবং তাদের অবদানগুলো হলো- স্থানীয় জাতের ধানের বীজ সংরক্ষণকারী কৃষক আব্দুল কাদির, জৈব চাষী ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনকারী মর্জিনা বেগম, নিরাপদ সবজি উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন প্রিয়া আক্তার, রাবেয়া বেগম একজন সংগ্রামী বিধবা নারী, যিনি সীমিত জায়গায় সবজি চাষ করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সন্তানদের লালন-পালন করছেন।
হারিয়ে যাওয়া স্থানীয় জাতের বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষক পারভীন বেগম, পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহারকারী ও এর প্রসারকারী শাবানা আক্তার, নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনকারী ছন্দু মিয়া, নিজের বসতবাড়িতে বৈচিত্র্যময় ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন মো. বকতিয়ার।
মো. আবু হায়াত একজন উদ্যোগী মানুষ, যিনি দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় সম্পদ রক্ষায় এবং রাস্তা, মসজিদ ও স্কুলের আঙিনায় পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণের কাজ করে আসছেন। পরিবেশসম্মত উপায়ে প্রাণিসম্পদ পালনকারী মো. শরিফ মিয়া।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে, বারসিক (BARCIK) কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “জলবায়ু সংকটের কারণে প্রকৃতিতে যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তার ফলে প্রতি বছর তাপদাহ, অসময়ে বৃষ্টি ও খরার মতো দুর্যোগ লেগেই আছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে পড়ছেন আমাদের কৃষকরা।” তিনি প্রকৃতির নিজস্ব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সংকট মোকাবেলা করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
কৃষক সংগঠনের হায়দার মিয়া এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন; নদী, পুকুর ও শতবর্ষী গাছ রক্ষার মাধ্যমে গ্রামের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর জোর দেন। এ কাজে নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে তিনি আলোকপাত করেন।
বক্তব্যে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমাদের সমস্যা আমাদেরকেই মেটাতে হবে। আমাদের চারপাশের প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে, সকল পেশার জনগণকে সম্মিলিতভাবে এই কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অংশগ্রহণকারী সকলে মিলে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসাথে, সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে নিজেদের গ্রামকে একটি আদর্শ ‘সবুজ গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তোলার দৃপ্ত শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
পড়ুন: আপনার বিদ্যুৎ বিল কত বাড়বে, হিসাব করে দেখুন
আর/


