বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় তুচ্ছ ঘটনায় প্রাণ গেল জামাল মিয়ার, নারী আটক

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তুচ্ছ বিরোধ শেষ পর্যন্ত রূপ নিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জামাল মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের গন্ডা পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জামাল মিয়া ওই গ্রামেরই স্থায়ী বাসিন্দা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে গন্ডা পূর্বপাড়া এলাকায় দুই শিশুর মধ্যে খেলাধুলা নিয়ে প্রথমে সাধারণ কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। শিশুদের ঝগড়া সেখানেই থেমে না থেকে দ্রুত দুই পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের আঘাতে গুরুতর আহত হন জামাল মিয়া।

আহত অবস্থায় জামাল মিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করেন তার স্বজনরা। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জামাল মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্ত সুজন মিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে এলাকাবাসীর সহায়তায় সুজন মিয়ার স্ত্রী অজু আক্তারকে আটক করা সম্ভব হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। আমরা ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এতে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনায় গোটা গন্ডা পূর্বপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামান্য খেলাধুলার বিরোধ থেকে একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ফের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন