বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ফের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর

টাঙ্গাইলে দুই গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষে নিহত ও বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি চলছে। তবে ১৪৪ ধারা জারি উপেক্ষা করে শুক্রবার ফের দফায় দফায় বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপরদিকে বিশৃঙ্খলারোধে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা থেকে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এই ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে শুক্রবার দফায় দফায় সংর্ঘষে জড়ায় দুই গ্রামবাসী। একই সাথে অন্তত ৪ থেকে ৫টি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়।

এদিকে সংর্ঘষের মাঝ খানে শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী আটকা পরে৷ পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গণমাধ্যম কর্মীরা অন্যত্র চলে যায়৷

স্থানীয় ও পুলিশ জানায়, গত ২২ এপ্রিল একটি দোকানে বাকির টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে এই দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা কালাম তালুকদার নিহত হয় এবং আহত হয় ২০ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় অন্তত অর্ধশতাধিক দোকানপাট।
এদিকে এই সংর্ঘষে মধ্যে ফের রাতে মাইকিং করে অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে জগৎপুরা গ্রামকে উচ্ছেদ করার ঘোষণা দেয়া হয়। এর পরেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

প্রশাসন সূত্র জানায়, দুই গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এসময় ওই এলাকার ২০০ গজ সীমানার মধ্যে সকল প্রকার বেআইনী সমাবেশ, শ্লোগান, শোভাযাত্রা, পিকেটিং, মাইক্রোফোন ব্যবহার, অননুমোদিত মাইকিং, ঢাকঢোল পিটানো, মোটর সাইকেল চালানো, গোলযোগ সৃষ্টি, লাঠিসোটা, অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি পরিবহন এবং সর্বসাধারণের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে দ্বিতীয় দিন শুক্রবার আবারো সংর্ঘষ ও বাড়ি ঘরে হামলা করা হয়। তুচ্ছ ঘটনার সংঘর্ষ এখন আধিপত্য বিস্তারের রূপ নিয়েছে।

ভূঞাপুর থানার ওসি সাব্বির রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের প্রায় ১০-১২ জন সদস্য আহত। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে নতুন করে আবারো সংর্ঘষ শুরু হয়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান
বলেন, ছোট একটি বিষয় নিয়ে ঘটনাটি শুরু হলেও বর্তমানে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন গ্রামের লোকজন জড়ো হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সে সংখ্যা, সে তুলনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে দ্রুরহ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও তার বড় ভাই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান স্থানীয় সংসদ সদস্যের গ্রামের বাড়ি গোপালপুর উপজেলার গোল পেঁচা গ্রামে।

পড়ুন: ২৪ ঘন্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন