কার্লো আনচেলত্তি যখন বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেন, তখনও কারও কারও নাম বাদ পড়া নিয়ে আলোচনা ছিল। এরপর চূড়ান্ত দলের আকার আরও কমে ২৬–এ দাঁড়ায়। সেখানে পছন্দের সব ফুটবলারকে রাখতে না পারায় দুঃখপ্রকাশও করেন ইতালিয়ান এই কোচ। এরপর বিশ্বকাপের শুরুর একাদশ গড়ার চ্যালেঞ্জ। প্রীতি ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে আনচেলত্তি সেটিও ঠিক করে ফেলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভটন হান্টিংটন ব্যাংক ফিল্ডে আজ (রোববার) মিসরের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। যেখানে সবদিক থেকে আধিপত্য ধরে রেখে সেলেসাওরা ২-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এর আগে ঘরের মাঠ ঐতিহাসিক মারাকানায় পানামার বিরুদ্ধে ৬-২ গোলের বড় জয় দিয়ে দেশ ছেড়েছিল ব্রাজিল। এই দুই ম্যাচ খেলেছেন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়রা। ফলে তাদের মাঝে সমন্বয় পরখ করার সুযোগ পেয়েছেন আনচেলত্তি।
ফলস্বরূপ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম প্রতিপক্ষ মরক্কোর বিপক্ষে লাইনআপ ঠিক করে ফেলার আত্মবিশ্বাস শোনা গেল ব্রাজিল কোচের কণ্ঠে, ‘মরক্কোর বিপক্ষে খেলার জন্য আমি প্রাথমিক লাইনআপ পেয়েছি। এখন আমার ধারণা স্পষ্ট।’ ১১ জুন ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠলেও, ব্রাজিলের মিশন শুরু হবে ১৪ জুন ভোর ৪টায়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা মরক্কোর সঙ্গে।
আক্রমণভাগে রাফিনিয়া-ভিনিসিয়ুসের সমন্বয়ের প্রশংসা ও ওয়েসলির ইনজুরি নিয়ে ব্রাজিল কোচ বলছেন, ‘আমরা মনে হয় ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়া খুব ভালো কাজ করছে। তাদের দারুণ মিল, যা আমাদের সুযোগ করে দেবে। দুজনের মাঝে সমন্বয়টা খুব ভালো মনে হয়েছে আমার কাছে। ওয়েসলির চোট পরীক্ষায় আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তার মাংসপেশির সমস্যা, এটি দুঃখজনক। তবে আমাদের বিকল্প খেলোয়াড় আছে। মার্কিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল (মাগালায়েস) পরবর্তী ম্যাচে অপরিহার্য। তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলেছে, আমাদের সঙ্গে অনুশীলনে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠবে।’
বিভিন্ন পজিশনে শিষ্যদের প্রশংসায় আনচেলত্তি বলেন, ‘দানিলো সব পজিশনে খেলতে পারে। ওয়েসলি ইনজুরিতে পড়ায় তাকে আমাদের রাইটব্যাক পজিশনে দরকার। সেখানে ইবানেজও খেলতে পারে, যেমনটা পানামা ম্যাচে দেখা গিয়েছিল। ওয়েসলি চোট পাওয়ায় আপাতত এটাই সমাধান। সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের কালকে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই ম্যাচের ৬০ মিনিট আমরা ভালো খেলেছি, রক্ষণ-আক্রমণ দু’দিকেই। আমরা বেশ চাপ দিতে পেরেছি, দলের মাঝেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব ছিল, পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন করেছে। যা অনেক কিছুর নিশ্চয়তা দিচ্ছে।’
‘এন্ড্রিক মানসম্পন্ন খেলোয়াড়। তার পজিশনে বেশ ভালো ছিল, স্কোরও পেয়েছে…সে–সহ প্রত্যেকেই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র ধারণ করে। ম্যাথিউস কুনহা হয়তো এন্ড্রিকের মতো ফিনিশিং দিতে পারেনি, তবে খেলার গঠনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আজ আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রায়ান খেলেনি, সেও ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আপনার বেঞ্চের শক্তি কত বেশি, সেটাও সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’, আরও যোগ করেন ব্রাজিল কোচ।
পড়ুন:রেসলিংয়ের পর চিলির বিপক্ষে জিতল পর্তুগাল
দেখুন:আঙুর চাষে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন মোকছেদুলের |
ইমি/


