বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় পুলিশ পরিচয়ে যুবককে অপহরণ: জনতার হাতে ধরা ২ ভুয়া পুলিশ

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা থেকে পুলিশ পরিচয়ে এক যুবককে তুলে নিয়ে কলমাকান্দায় আটকে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় জনতার সচেতনতায় এবং সময়োচিত পদক্ষেপে বড় কোনো বিপদ হওয়ার আগেই অপহৃত ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপহরণে জড়িত দুই ‌‘ভুয়া পুলিশ’ সদস্যকে আটক করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

রবিববার (৭ জুন) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের আমবাড়ী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ভুয়া পুলিশদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একজোড়া হ্যান্ডকাফ জব্দ করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা গ্রামের মো. সিজন মিয়া (৩৫) এবং মো. সুজাত মিয়া (৩৩)।

উদ্ধারকৃত যুবক হলেন- সোহরাব হোসেন (২৮)। তিনি বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর পালপাড়া গ্রামের মো. ওয়ারেছ আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (পুলিশ) সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়ন এলাকা থেকে সোহরাব হোসেনকে জোরপূর্বক তুলে নেয়। পরে তাকে নিয়ে আসা হয় পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের আমবাড়ী এলাকায়।

আমবাড়ী এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তিদের গতিবিধি, কথাবার্তা এবং আচরণ দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে খোঁজখবর শুরু করেন। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে স্থানীয় জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে মো. সিজন মিয়া ও মো. সুজাত মিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে এবং তাদের সঙ্গে থাকা অপহৃত সোহরাবকে আটকে রাখে।

অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ পরিচয়দানকারী চক্রের অন্য সদস্যরা স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে কলমাকান্দা থানা পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কলমাকান্দা থানা পুলিশের একটি দল। তারা আমবাড়ী বাজার এলাকা থেকে জনতার হাতে আটকে থাকা দুই ভুয়া পুলিশকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং অপহৃত সোহরাব হোসেনকে নিরাপদে উদ্ধার করে।

আটককৃতদের তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে একজোড়া হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল। পুলিশ ধারণা করছে, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতে এবং নিজেদের সত্যিকারের পুলিশ হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করতেই তারা এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করছিল।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছি এবং বারহাট্টা থেকে অপহৃত সোহরাব হোসেন নামে এক যুবককে উদ্ধার করেছি। আটককৃতদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি। বর্তমানে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় রেখে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা শনাক্ত ও পলাতকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ পরিচয়ে এমন অপহরণের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় জনতার সাহসী ভূমিকার কারণে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রতারকরা ধরা পড়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

পড়ুন- রাজধানীতে দিনে-দুপুরে গুলি করে ব্যাংকের সামনে থেকে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন