বিজ্ঞাপন

সরকারি হাসপাতালের আরএমও নিজেই গড়ে তুলেছেন ক্লিনিক, চলছে দেদার্সের টেস্ট বানিজ্য

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম দুর্নীতি সার্টিফিকেট বানিজ্য ও রোগীদের পরিক্ষার নামে জমজমাট কমিশন বানিজ্য চলছে। হাসপাতালের আরএমও ডাঃ নাসির উদ্দিন নিজেই এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।নামে বেনামে কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন বানিজ্য করে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এসব ক্লিনিকে নিকট আত্মীয়দের নামে মালিকানাও রয়েছে তার।

বিজ্ঞাপন

ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা যায়, গত ০৫ আগষ্ট ২০২১ সালে এ হাসপাতালে যোগদান করেন ডাঃ নাসির উদ্দিন। এর পরে ততকালীন নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ মে এম এনামুল হক শামীমের আত্মীয়(ভাগিনা) পরিচয়ে হাসপাতালটির আরএমও পদ বাগিয়ে নেন। মন্ত্রীর ক্ষমতাকে পুঁজি করে হাসপাতালটির মধ্যে একটি নিজস্ব বলয় তৈরি করেন। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ক্লিনিকসহ একাধিক ক্লিনিক ও ফার্মেসীর দোকানের মালিক বনে যান তিনি। হাসপাতাল গেটের ক্লিনিক গুলোর সাথে গোপন চুক্তিতে শুরু করেন কমিশন বানিজ্য। তার ব্যবস্থাপত্র পেলে ক্লিনিক গুলো সাধারন মানুষের চোখ এড়াতে পরিক্ষা নিরিক্ষার মানি রিসিট এ রেফার্ট বাই নাসির উদ্দিন না লিখে এম উদ্দিন ব্যবহার করতে শুরু করে।
সম্প্রতি বেসরকারি ক্লিনিকের কয়েকটি ব্যবস্থাপত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্যের সত্যতাও মেলে। বেসকিছুদিন আগে হাসপাতালের অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর দুদক অভিযান চালায় হাসপাতালে।নানা অনিয়ম নজরে আসায় হাসপাতাল কতৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। এবং ডাঃনাসির উদ্দিন এর সাথে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সাথে মালিকানা থাকায় প্রাথমিক ভাবে সতর্ক করেন দুদক কর্মকর্তারা।
সুযোগবুঝে ডাঃ নাসির উদ্দিন ৫ আগষ্টের পরে পটপরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে ফেলেন নিজেকেও। হঠাত করেই জামায়েত ইসলামী ঘরনার ডাক্টার বনে যান তিনি। সখ্যতা গড়ে তুলের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে। তার প্রভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন হাসপাতালের সাধারন চিকিৎসকরাও। অন্যদিকে তার আশির্বাদ নিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন অনেক চিকিৎসকরা। এতে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ রোগীদের।

এছাড়াও তার ফেসবুক নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষীকির শুভেচ্ছা জানিয়ে একাধিক পোষ্ট রয়েছে। সে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীর ছিলেন বলে জনাযায়।

হাজেরা বেগম বলেন,হাসপাতালে আসলে তো ডাক্টার পাওয়া যায় না। আগে আসলে ডাক্তার পাওয়া যেত। আর এখন সাড়ে নয়টা বাজে তাও ডাক্তার আসে নি। আর হাসপাতালের রুম গুলা অপরিষ্কার।

রামভদ্রপুর থেকে আসা রহিমা খাতুন(৩০) বলেন, আমার শাশুরীকে নিয়ে আমি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসছি। ভর্তি করার পরে খুব ভোগান্তি হচ্ছে। কারন হাসপাতালের পরিবেশ লোংরা ও হাসপাতালের খাবার ও নিন্মমানের। আপনেরাই জিগ্যেস করলেন আর কেউই তো জিজ্ঞেস করলো না।

আরশিনগর থেকে আসা রোগী শাহাজাহান বলেন, আমি তিনদিন ধরে আসছি। এখানে খাবারের মান ভালো না। বয়েলার মুরগীর ছোট একটা টুকরা দেয়ে। তাই বাহিরের থেকে খাবার কিনে খাইছি।

বহিঃবিভাগের একজন রোগীর পারভিন বলেন,আমি শারিরীক সমস্যা নিয়ে ডাঃ নাসিরর এর কাছে আসছিলাম। সে ৫ টা টেষ্ট লিখে বাহিরে মর্ডান ক্লিনিক থেকে করাতে বলেছে। আমি করিয়েছি।

দুর্নিতি দমন কমিশনের মাদারীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক শ্যামল চন্দ্র সেন বলেন, ডাঃ নাসির উদ্দিন এর বিরুদ্ধে ভেদরগঞ্জ নিউ পপুলার হাসপাতালের মালিকানার সত্যতা মিলেছে। তার পিতার আঃ হাই মন্দির নামে মালিকানা রেখে ডাঃ নাসির উদ্দিন সেখানে নমিনি ছিলেন। ও হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগসহ আমরা এ বিষয় আবারো সময় নিয়ে কাজ করছি।

আরএমও ডাঃ নাসির উদ্দিন বলেন,আমার নামে কোন হাসপাতালের মালিকানা নেই। আর হাসপাতালের কোন ক্লিনিকের সাথে পরিক্ষা দিয়ে কমিশন বানিজ্যতেও আমি জড়িত নই। আর কোন রাজনৈতিক দলের সাথেও আমি জড়িত নেই। এসব অভিযোগ মিথ্যা ভিক্তিহীন।

শরীয়তপুর জেলা সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, ডাঃ নাসির উদ্দিন এর বিরুদ্ধে যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়। তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পড়ুন:পটিয়ায় হামলায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন যুবক, গ্রেফতার ১

দেখুন:কেন পাচারের টাকা ফেরাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার? |

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন