বিজ্ঞাপন

চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় যাত্রী ছাউনির নামে সরকারি অর্থ অপচয়, জনমনে ক্ষোভ

ঢাকার ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের নামে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বার্থ ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা না করে নিজ বাড়ির সামনের পুকুরপাড়ে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে উন্নয়ন তহবিলের অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে। ফলে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি সাধারণ যাত্রীদের কোনো উপকারেই আসছে না।

স্থানীয় সূত্র ও সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেন তৎকালীন সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হলেও প্রায় আট মাস আগে তার নিজ বাড়ির সামনে পুকুরপাড়ে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রী ছাউনিটি সোমভাগ ইউনিয়নের গোয়ালদী এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের পুকুরের পূর্বপাশে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপনাটিতে যাত্রী ছাউনির কোনো সাইনবোর্ড নেই। নির্মাণশৈলী ও অবস্থান দেখে এটিকে যাত্রী ছাউনি না বলে ব্যক্তিগত বিশ্রামাগার বা আড্ডাস্থল বলেই মনে হয়। সাধারণত সড়কের দিকে মুখ করে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হলেও এখানে সেটির ব্যতিক্রম ঘটেছে। স্থাপনাটি চেয়ারম্যানের পারিবারিক রাস্তার দিকে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যা যাত্রীদের ব্যবহার উপযোগী নয়।

স্থানীয়রা জানান, ধামরাই-কালামপুর সড়কে কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম তিন চাকার অটোরিকশা। যাত্রীরা সুবিধাজনক স্থান থেকেই অটোরিকশায় উঠানামা করেন। ফলে ওই স্থানে যাত্রী ছাউনির কোনো বাস্তব প্রয়োজন ছিল না। যাত্রী ছাউনিটি আর একটু পূর্ব পাশে তিন রাস্তার মোড়ে স্থাপন করা হলেও যাত্রী বা স্থানীয়রা এই প্রচন্ড গড়মে একটু বসার সুযোগ পেতো।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধা ও প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি মূলত চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিলো।

যদিও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হত্যা মামলার আসামি হয়ে চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় সেই উদ্দেশ্য হয়তো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে রাতের বেলায় সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, আব্দুল জলিল ও নিয়ামত আলীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের করের টাকায় নির্মিত স্থাপনাটি কোনো জনকল্যাণে ব্যয় হয়নি। পরিকল্পনাহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি থাকলে এ ধরনের অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপচয় ঘটত না। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ভৈরব রেলওয়ে জংশনের সংঘর্ষ মামলায় একজন গ্রেফতার, অভিযান অব্যাহত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন