বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সুরক্ষা বিধানে সরকার কর্তৃক সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । দেশের ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং সেখানে নিয়োজিত চিকিৎসকদের সুরক্ষায় মোট ৪ হাজার ৯৫০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে । রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সম্মেলনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানালে এই বিশেষ উদ্যোগের সুত্রপাত ঘটে । এই নিরাপত্তা জোরদারকরণ কর্মসূচির অধীনে বার্ষিক সম্ভাব্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য তিন শিফটে বিভক্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন । এই নিরাপত্তা দলে একজন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি), একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) এবং আটজন সাধারণ আনসার সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন ।
এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৭ মে ২০২৬ তারিখের স্মারক এবং অর্থ বিভাগের ১৪ মে ২০২৬ তারিখের স্মারকের ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী ১৮ মে ২০২৬ তারিখে একটি বিশেষ নোটিশ জারি করেন । উক্ত নোটিশে দেশের ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (UHFPO) কাছ থেকে আনসার নিয়োগের লক্ষ্যে নির্ধারিত ছকে তিন দিনের মধ্যে তথ্য আহ্বান করা হয় । এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকেরা যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে কাজ করছিলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা অনেকাংশে লাঘব হবে এবং এটি একটি নিরাপদ ও রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে । সুতরাং, এ পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে আনসার মোতায়েন-এর সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিনের সয়ে যাওয়া একটি যৌক্তিক দাবির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হতে দেখা সত্যি-ই স্বস্তির কারন সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ সমুহের মধ্যে পেশাজীবিদের জন্য এটি অন্যতম ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক চাহিদা ছিলো।
বিশেষায়িত বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের গুরুত্ব এরিয়ে যাওয়া এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভুল তথ্য পাঠিয়ে একটি বৈষম্য মুলক চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে আনসার সদস্য মোতায়েন এর ক্ষেত্রে বক্ষব্যাধি ক্লিনিক সমুহকে বাদ দিয়ে চিন্তা করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই ইতিবাচক পদক্ষেপটি অত্যন্ত প্রশংসিত হলেও, দেশের ৪৪টি বিশেষায়িত বক্ষব্যাধি ক্লিনিক (Chest Disease Clinic – CDC) এই নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে রয়ে গেছে । জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (NTP) অধীনে পরিচালিত এই ৪৪টি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক মূলত দেশের যক্ষ্মা ও ফুসফুসজনিত সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসায় প্রথম সারির বিশেষায়িত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে । বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম সফল কর্মসূচি হিসেবে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশে যক্ষ্মারোগী ও মৃত্যুর হার এমন এক পর্যায়ে কমিয়ে আনা, যাতে এটি আর জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত না হয় । ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী যক্ষ্মায় মৃত্যুহার ৯০ শতাংশ এবং নতুনভাবে সংক্রমণের হার ৮০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই বক্ষব্যাধি ক্লিনিকগুলোর ভূমিকা অপরিসীম । বর্তমানে দেশে প্রতি লাখে যক্ষ্মা সংক্রমণের হার ২১৮ জন, যা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় সপ্তম স্থানে রেখেছে ।
বক্ষব্যাধি ক্লিনিকসমূহে মূলত বহির্বিভাগ (OPD) চালু থাকায় প্রতিদিন অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ রোগীর চাপ সামলাতে হয় । সকালের নির্দিষ্ট কার্যঘণ্টার মধ্যে শত শত রোগীর কফ পরীক্ষা, যক্ষ্মা শনাক্তকরণ পরীক্ষা এবং ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গিয়ে সেখানে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয় । সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসায় নিয়োজিত এই কেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলার অভাব কেবল চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করছে না, বরং তা যক্ষ্মার মতো ভয়াবহ বায়ুবাহিত রোগের সংক্রমণ ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে ।
যক্ষ্মা একটি অত্যন্ত সংক্রামক জীবাণুঘটিত রোগ, যা মূলত মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায় । আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশি বা কফের ড্রপলেট বাতাসে মিশে সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমণ ঘটায় । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশের আলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০১১ সালে যক্ষ্মা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (TB IPC) নির্দেশিকা প্রণয়ন করে । এই নির্দেশিকা অনুযায়ী যক্ষ্মা হাসপাতালের সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ (Administrative Controls) হলো প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত । এই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপাদানগুলো’’র মধ্যে রোগী ট্রায়াজ (Patient Triage) স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের সাথে সাথেই তিন সপ্তাহ বা তার অধিক সময় ধরে কাশিতে ভোগা সন্দেহভাজন যক্ষ্মা রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করা যা আলাদাকরণ (Spatial Separation): চিহ্নিত সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত যক্ষ্মা রোগীদের সাধারণ রোগীদের থেকে পৃথক ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলকারী স্থানে বসানো অবস্থান সময় হ্রাস (Minimizing Exposure Time): সংক্রামক রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাটানো সময় যথাসম্ভব কমিয়ে আনা । বর্তমানে দেশের অধিকাংশ বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে কোনো নিরাপত্তা প্রহরী বা আনসার সদস্য না থাকায় এই ট্রায়াজ পদ্ধতি ও শৃঙ্খলামূলক গাইডলাইন সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে । রোগীরা সরাসরি বহির্বিভাগের জনাকীর্ণ কক্ষে প্রবেশ করে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছে । মাস্ক ব্যবহারে অনাগ্রহ এবং অনিয়ন্ত্রিত কাশির কারণে ক্লিনিকের অভ্যন্তরে জীবাণুর ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে । স্বাভাবিক ভাবেই বক্ষব্যাধি ক্লিনিকসমূহে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ জনগণের তুলনায় সুপ্ত যক্ষ্মা সংক্রমণ (Latent TB Infection – LTBI) এবং সক্রিয় যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন । শৃঙ্খলার অভাবের কারণে চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টরা নিজেদের সংক্রমণ ঝুঁকি মুক্ত রেখে সেবা প্রদান করতে প্রতিকুলতার মধ্যে পরছেন, যা কর্মীদের দক্ষতা’র শতভাগ প্রয়োগে একধরনের অন্তরায় এবং এটি বিদ্যমান সংক্রমণ প্রতিরোধ আইন ও প্রযোজ্য নীতিমালার পরিপন্থী।
রাজশাহী বিভাগের নাটোর বক্ষব্যাধি ক্লিনিক টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত কেন্দ্র চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র । ক্লিনিকটিতে দৈনিক বিপুল পরিমাণ রোগ নির্ণয়ের জন্য কফ পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয় । তবে ক্লিনিকটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীসংখ্যান হলো প্রতিষ্টানটির জনবলের প্রায় ৭৫ শতাংশই নারী। প্রতিষ্টানের সিমানা প্রাচীর বহুলাংশে বিনষ্ট, এখানে অনুপ্রবেশ ( Illegal Okcupid ), এবং ভৌগোলিক বিবেচনায় শহরের অন্যতম অপরাধ প্রবন এলাকায় এটি অবস্থিত।
নিজেস্ব নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে প্রতিদিনের ব্যাপক রোগীর ভিড় সামলানো এবং একই সাথে রোগীদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। যক্ষ্মা রোগীরা অনেক সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন এবং পরীক্ষা ও ওষুধ প্রাপ্তি নিয়ে নারী কর্মীদের ওপর চড়াও হন। কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ছাড়া এই নারী কর্মীদের পক্ষে একদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং অন্যদিকে সংক্রমণ ঝুঁকি এড়ানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সামান্য অবহেলাও যে কতটা ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা করোনা মহামারি এবং সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাবের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে ।
তুলনামূলক নিরাপত্তা কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সমুহে আনসার সদস্য মোতায়েন জনিত ব্যয়ের পরিমান এবং এর সাথে দেশের ৪৪ টি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক যুক্ত হলে যে অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করতে হবে তার পরিমান অতি স্বল্প।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োজিত বিশাল আনসার বাহিনীর তুলনায় বক্ষব্যাধি ক্লিনিকসমূহে একটি অত্যন্ত সীমিত ও সাশ্রয়ী নিরাপত্তা মডেল প্রয়োগের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসক-কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। আমরা যদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বক্ষব্যাধি ক্লিনিক সমুহে নিরাপত্তা কাঠামোর একটি তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করি, দেখা যাবে সারাদেশে ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (UHC) ২৪ ঘণ্টা ইনডোর ও আউটডোর সেবা চালু থাকে। এই বিশাল কার্যক্রম সামলাতে সেখানে ১ জন পিসি, ১ জন এপিসি ও ৮ জন সাধারণ আনসারসহ মোট ১০ জন সশস্ত্র সদস্য ৩টি শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানকার প্রধান ঝুঁকি হলো চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি। এই ব্যবস্থার জন্য বার্ষিক বাজেট প্রাক্কলন ১৫০ কোটি বিডিটি।
অন্যদিকে, ৪৪টি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে (CDC) মূলত সকালের সীমিত সময়ে শুধু আউটডোর সেবা দেওয়া হয়। তাই এর প্রস্তাবিত মডেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে সংক্রমণ ছড়ানো, বিশৃঙ্খলা ও নারী কর্মীদের নিরাপত্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে ১টি মাত্র শিফটে (সকালের পিক আওয়ারে) দায়িত্ব পালনের জন্য ১ জন এপিসি এবং নারী সদস্যসহ ২ থেকে ৪ জন সাধারণ আনসার (মোট ৩-৫ জন) নিয়োজিত করলে স্বল্প ব্যয়ে তা সম্ভব। সীমিত জনবল ও কার্যক্রমের কারণে এই মডেলটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী, যার বার্ষিক প্রাক্কলিত বাজেট মাত্র ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা মাত্র।
চিকিৎসাগত ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা (MDR-TB) এবং জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা আর্জনে সরকারের বিপুল পরিমানে বিনিয়োগ ও আন্তরিকতা রয়েছে। যক্ষ্মা ক্লিনিকসমূহে শৃঙ্খলা রক্ষা না করা হলে তা দেশের সার্বিক চিকিৎসা ব্যয় ও মহামারি পরিস্থিতির ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলেতে পারে । সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেশীরভাগ বক্ষব্যাধি ক্লিনিক গুলো ছয়/সাত দশক পুর্বে স্থাপিত হওয়ায় এগুলোর অবকাঠামোগত নাজুক পরিস্থিতি সার্বিক ভাবে আরও নিরাপত্তা হীনতার সৃষ্টি করেছে।
বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে যদি শৃঙ্খলার অভাবে রোগীরা ওষুধ গ্রহণ ব্যাহত হয় অথবা ক্লিনিকে আগত সাধারণ মানুষ ও যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তিরা একত্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে এমডিআর-টিবিতে সংক্রমিত হয়, তবে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে । অতএব, স্বল্প ব্যয়ে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আনসার মোতায়েন করে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার চিকিৎসাগত অপচয় রোধ করবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের বাস্তব ও মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত, অর্থনৈতিক ব্যয়ের আকার সু-বিবেচনা করে সংক্রমক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও এর বিস্তারজনিত মহামারী রোধে দেশের ৪৯৫ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো ৪৪টি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হলে – স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সরকারের প্রত্যাশিত সাফল্যে সহায়ক হবে।
লেখক:
মুকুল হোসেন
ফোকাল পয়েন্ট (বিকল্প), সিডিসি-নাটোর ও স্বাস্থ্য কর্মী, শ্রমিক অধিকার কর্মী।
পড়ুন : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহসিকতার স্বীকৃতি পেলেন ২৫ নাগরিক ও গ্রাম পুলিশ সদস্য


