ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন সামরিক অভিযানে তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১জুন) ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ১৩ এপ্রিল ইরান-সংশ্লিষ্ট নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে অবরোধ শুরু হওয়ার পর এটাই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানান, নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত তিন ভারতীয় নাবিকের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাংকার ‘সেত্তেবেল্লো’র ওপর একটি নির্ভুল হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা বারবার অমান্য করছিল। ফলে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে নির্ভুল গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়।
সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান অবরোধ লঙ্ঘন করে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার হামলার নিন্দা জানিয়ে জানায়, তারা জাহাজটিতে থাকা ২১ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত নাবিকদের একজন শিবানন্দ চৌরাসিয়ার। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় নয় মাস আগে তিনি সমুদ্রে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাবার সঙ্গে কথা বলে তিনি জানিয়েছিলেন, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।
আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনার মধ্যেই ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী জাহাজে এই হামলার ঘটনা ঘটল। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানবিরোধী অবরোধ কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত আটটি নির্দেশনা অমান্যকারী জাহাজ অকার্যকর করা হয়েছে, ১৩৪টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা বহনকারী ৪২টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার ওমান উপসাগরে ‘মারিভেক্স’ নামের একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারও অকার্যকর করে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটিতে ভারতীয় নাবিকরাও ছিলেন এবং সেটি একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের আওতায় থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি জাহাজ এবং তথাকথিত ‘ছায়া নৌবহর’-এর ট্যাংকারগুলো। সাধারণত এসব পুরোনো জাহাজ পশ্চিমা বীমাবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন দেশের পতাকা ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল পরিবহন করে থাকে।
সূত্র: রয়টার্স
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

