নতুনের সম্ভার আর রেকর্ডের সমীকরণে আজ পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী ম্যাচে অন্যতম আয়োজক মেক্সিকোর আতিথ্য নেবে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য পুরো টুর্নামেন্ট সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই ম্যাচটি ফিরিয়ে আনছে ২০১০ বিশ্বকাপের স্মৃতি। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর সেবারের আসর শুরু হয়েছিল এই দুই দলের ম্যাচ দিয়ে।
ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে তিন আয়োজক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সংস্কৃতিকে তুলে ধরে শুরু হবে বর্ণিল অনুষ্ঠান। যেখানে মার্কো বেলিচার নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চ মাতাবেন শাকিরা, জে বালভিন ও লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেসের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। নাচ-গানের ঝলকানি শেষেই মাঠে গড়াবে বল, যার মধ্য দিয়ে জেগে উঠবে ৪৮টি দেশের কোটি কোটি মানুষের ফুটবল-স্বপ্ন।
১৯৩০ সালে মাত্র ১৩টি দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ এবার ছুঁতে চলেছে নতুন মাইলফলক। শতবর্ষের দৌরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফুটবল ইতিহাসে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে রেকর্ড ৪৮টি দল। ৩৯ দিনের এই ম্যারাথন টুর্নামেন্টে ম্যাচ সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়াচ্ছে রেকর্ড ১০৪টিতে। ফলে এবারের ফুটবলের মহোৎসব হতে যাচ্ছে আরও দীর্ঘ, বৈচিত্র্যময় ও নাটকীয়। তিন দেশের ১৬টি চেনা শহর রূপ নিতে যাচ্ছে ফুটবল রণক্ষেত্রে। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেগা ফাইনালের মধ্য দিয়ে ভাঙবে এই মহাসম্মেলন।
রেফারির বাঁশিতে শুরু হওয়া সোনালী ট্রফির লড়াই শেষ হবে এক হুইসেলে। এর মাঝে প্রতিটি স্টেডিয়াম লিখবে নতুন গল্প। কোথাও শেষ নাচ হতে পারে কোনো কিংবদন্তির, কোথাও জন্ম নিতে পারে নতুন কোনো সুপারস্টারের। ছোট দলের কীর্তি কিংবা বড় দলের কান্না। একই সঙ্গে উল্লাস, বিস্ময় আর স্বপ্ন—সব মিলিয়ে পুরো পৃথিবী আবারও ডুবে যাবে ফুটবলের এক অনন্য জাদুতে।
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তান। এর মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৮৫ হাজার জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও হতে যাচ্ছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ-এর ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ। অন্যদিকে এবারের আসর হতে পারে ফুটবলের এক সোনালী প্রজন্মের শেষ নাচ। লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং লুকা মদরিচ—তিন কিংবদন্তিরই এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
মাঠের লড়াইয়েও থাকছে আধুনিকতার ছোঁয়া। খেলার গতি বাড়াতে ও সময় অপচয় রোধে বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ফিফা। ম্যাচ বলে থাকছে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। এছাড়া আমেরিকান ‘সুপার বোল’-এর আদলে ফাইনালে থাকবে ৩০ মিনিটের দীর্ঘ হাফটাইম শো। ফিফার লক্ষ্য এবার প্রায় ৭০ লাখ টিকিট বিক্রি করা, যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। তবে টিকিটের চড়া মূল্য নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মাঠের বাইরের জটিলতায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরান দলকে রাখা হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তায়। দলটির বেস ক্যাম্প থাকবে মেক্সিকোতে, তারা কেবল ম্যাচের দিনগুলোতেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার মাঠে নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে। তবে লিওনেল স্কালোনির দলের চেয়েও অনেকে ব্রাজিল কিংবা ফ্রান্সকে ফেবারিট মানছেন। দল বাড়ায় এবার গ্রুপ পর্বের সমীকরণও বদলে গেছে। ৩টি করে ম্যাচ পাওয়ায় কোনো বড় দলের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা এবার বেশ কম। বরং হেভিওয়েট দলগুলোর জন্য গ্রুপ পর্ব হতে যাচ্ছে নকআউটের আসল যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার মঞ্চ। কে হাসবে শেষ হাসি, তা চিলতে সময়ের অপেক্ষা, তবে ফুটবল জাদুতে বুঁদ হতে প্রস্তুত এখন পুরো বিশ্ব।
দেখুনঃকালো টাকা বৈধ করার সুযোগ ফিরল
ইমি/


