খামারে লালিত-পালিত ব্রয়লার, লেয়ার, পাকিস্তানি মুরগিতে এখন দেশের বাজারগুলো সয়লাব। এই মুরগি পালনে লাভ বেশি বলে প্রচলিত। ফলে দেশি মুরগি বাজার থেকে হারাতে বসেছে। সেই অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিদেশি নয়, দেশি মুরগি পালন করে নিত্যদিনের অভাবকে বিদায় জানিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন ভোলা চরফ্যাশন উপজেলায আত্মপ্রত্যয়ী গ্রামীণ নারীরা।
কূপ মডেল পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালনে (বা খাঁচা ও আবদ্ধ মডেল)।পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা,পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত স্পেশাল প্রোগ্রাম -ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার) এর প্রাণিসম্পদ খাত এর এই উদ্যোগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কূপ মডেল (বা খাঁচা ও আবদ্ধ মডেল)-এর মতো উন্নত বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে স্বল্প পুঁজি ও নামমাত্র শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় দেশি মুরগি পালন গ্রামীণ নারীদের জীবনমান আমূল বদলে দিচ্ছে । এই পদ্ধতিতে অল্প জাযগায, কম পুঁজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় নারীরা ঘরে বসেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন ,বাড়ছে কর্মসংস্থান ।
পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-২০২৫-২৬ অর্থবছরে চরফ্যাশনের নির্বাচিত খামারিদের ১৫০টি দেশি মুরগির বাচ্চা, প্রয়োজনীয় টিকাদান সুবিধা এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। ফলে খামারিরা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করছেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হচ্ছেন স্থানীয নারী খামারিরা ।
চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর গ্রামের স্থানীয় নারী খামারি শিরিন বেগম বলেন, কূপ মডেল পদ্ধতিতে মুরগি পালন তুলনামূলকভাবে সহজ এবং রোগব্যাধির ঝুঁকিও কম। নিযমিত প্রশিক্ষণ ও টিকা প্রদানের ফলে মুরগির মৃত্যুহার হ্রাস পেযেেছ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশি মুরগি পালন করতে আলাদা সময় ও খাদ্য সরবরাহ করতে হয় না । দেশীয় পদ্ধতিতে মুরগি পালনে বাচ্চাগুলো ৩ থেকে ৪ মাস বয়সে প্রজননক্ষম হয় এবং ডিম দেওয়া শুরু করে। প্রতিটি মুরগি বছরে ২০০ থেকে ২৫০টি ডিম দিয়ে থাকে। এ ছাড়া ওই ডিম ফোটানোর পর দুই মাস বয়সের একটি বাচ্চা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এতে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। পারিবারিক আয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।
এফডিএ -এর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা শাওন চন্দ্র শীল বলেন, কূপ মডেল পদ্ধতি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব খামার ব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে চরাঞ্চলের সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে টেকসই জীবিকা গড়ে তোলা যায়, তার একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই উদ্যোগ।
এফডিএ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী জনাব শংকর চন্দ্র দেবনাথ জানান, গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণ বাডানো, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই জীবিকাযনের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রযেেছ।
উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) পরিচালক মো: কামাল উদ্দিন বলেন,কূপ (বা খাঁচা ও আবদ্ধ মডেল) পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন চরফ্যাশনের খামারিদের স্বাবলম্বিতার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পল্লী কর্ম-সহাযক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও উন্নয়ন সংস্থা , পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর বাস্তবায়ন সহাযতায় কূপ মডেল বা খোপ মডেল পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন হলো গ্রামাঞ্চলে নারীদের স্বাবলম্বী করার একটি অত্যন্ত কার্যকরী উপায়। বাড়ির আঙিনায় অল্প জায়গায় মুরগির জন্য ছোট ঘর বা খোপ তৈরি করে এবং দিনের বেলা ছেড়ে পালনের মাধ্যমে খামারিরা বিনা পুঁজিতে বা অল্প খরচে প্রচুর লাভবান হতে পারেন। কূপ বা খোপ মডেল হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে মুরগি রাতে নিরাপদে থাকার জন্য নিন্দিষ্ট জায়গায় থাকে, কিন্তু দিনে বাড়ির আশেপাশে ঘুরে নিজেদের খাবার সংগ্রহ করে। এর ফলে খাদ্যের খরচ অনেক কমে যায়।
চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা রাজন আলী বলেন,এই কূপ মডেল পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন খামারীরা খুবই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। আধুনিক ব্যবস্থাপনা, নিযমিত টিকা এবং প্রশিক্ষণের ফলে খামারিরা সফল হচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয উঠছেন।


