চট্টগ্রামের পটিয়া প্রেস ক্লাবে হামলা চালিয়ে প্রেসক্লাব থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দৈনিক যুগান্তরের পটিয়া প্রতিনিধি আবেদুজ্জামান আমিরীর ওপর হামলার ঘটনায় কথিত যুবদল নেতা এস এম রেজা রিপনসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হামলার শিকার সাংবাদিক আবেদুজ্জামান আমিরী বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এস এম রেজা রিপনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এতে ৭ জনকে এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন দুপুরে পটিয়া প্রেস ক্লাবে অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সাংবাদিক আবেদুজ্জামান আমিরী সংবাদ সংক্রান্ত আলোচনা ও আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় দুপুর পৌনে ১টার দিকে এস এম রেজা রিপনের নেতৃত্বে একদল লোক প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সাংবাদিক আবেদুজ্জামান আমিরীকে টেনে-হিঁচড়ে ক্লাবের বাইরে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
সাংবাদিক আবেদুজ্জামান আমিরী জানান, গত বছরের ৫ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ৬ মার্চ দৈনিক যুগান্তরে পটিয়ার শ্রীমাই খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শাসন খালের ক্ষতির বিষয়ে দুটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।
তার দাবি, ওই প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে রিপন ও তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রেস ক্লাবে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়।
এদিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ঘটনার বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর দলীয়ভাবে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে এস এম রেজা রিপনের যুবদলের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি তার প্রাথমিক সদস্যপদও নেই। তিনি যুবদলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
পড়ুন- সবজির বাজারে নেই বাজেটের প্রভাব, বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই


