বিজ্ঞাপন

১৭ বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতল মোহামেডান

অবশেষে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর প্রথম ঢাকা লিগের শিরোপা জিতল ক্লাবটি। এজন্য তাদের ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হলো। দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান ২০০৯-১০ মৌসুমে সবশেষ শিরোপা পেয়েছিল। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনেক পথ পেরোনোর পর মোহামেডানের শোকেসে উঠল গৌরবের ট্রফি।

এদিন শিরোপা জিততেও তাদের ভাগ্য পরীক্ষা দিতে হয়েছে। নিজেরা দারুণ পারফরম্যান্সে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডকে উড়িয়ে দিয়েছে। মোহামেডানের শিরোপা জয়ের জন্য প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হারতেই হতো। আগের ম্যাচে মোহামেডানকে হারানো ঢাকা লেপার্ডস কাজের কাজটা করে দিয়েছে। আবার বৃষ্টিও পাশে দাঁড়িয়েছে মোহামেডানের। সবকিছু এদিন তাদের পক্ষেই গেছে।

বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রাইম ব্যাংক ৮ উইকেটে ২৬৬ রান করে। ঢাকা লিগে এই রান বেশ চ্যালেঞ্জিং। ঢাকা লেপার্ডস ২৯.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪২ রান তুলে নেয়। এরপর বৃষ্টির বাগড়া। দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পর আম্পায়াররা ম্যাচ ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ফয়সালা করেন। মাত্র ৯ রানে এগিয়ে থেকে ঢাকা লেপার্ডস ম্যাচ জিতে নেয়। প্রাইম ব্যাংকের এই হারেই মোহামেডানের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

কারণ পাশের মাঠে মোহামেডানও জয়ের অপেক্ষায়। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহামেডান লিগের সর্বোচ্চ ৪ উইকেটে ৪০৬ রান জমা করে। জবাব দিতে নেমে আবাহনী ২৪.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করে। ভালো জবাব দিলেও বৃষ্টির পর ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৬৩ রানে পিছিয়ে ছিল আবাহনী। তাতেই গড়ে উঠে ব্যবধান। ৬৩ রানের জয়ে মোহামেডান নিশ্চিত করে ২ পয়েন্ট। ১১ ম্যাচে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন। এই ম্যাচে দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তার হাতেই উঠেছে শিরোপা।

তাদের জয়ের নায়ক পারভেজ হোসেন ইমন। ১১৬ বলে ১০ চার ও ১২ ছক্কায় ১৫০ রান করেন। এনামুল হক বিজয়ও কম ছিলেন না। ১১৫ বলে ১১ চার ও ৯ ছক্কায় ১৪১ রান করেন। দুজন দ্বিতীয় উইকেটে ২৪৮ রানের জুটি গড়েন। দেশের লিস্ট ‘এ’ ইতিহাসে দ্বিতীয় উইকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি।

গত বছরের লিগে ২৫০ রানের জুটি গড়েছিলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের মাহফিজুল ইসলাম রবিন ও মিজানুর রহমান। শেষ দিকে আফিফ হোসেন ধ্রুবর ৩৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬১ রানের সুবাদে মোহামেডানের রান চারশ ছাড়িয়ে যায়। ১৬ বলে ৩ ছক্কায় ৩০ রান করেন আনিসুল। লক্ষ্য তাড়ায় অনিক সরকারের ৮৫ রানে আবাহনী দারুণ জবাব দিচি।ছল। তার সঙ্গে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির। কিন্তু বৃষ্টির পর আর খেলা শুরু না হওয়াতে ম্যাচটা মোহামেডান জিতে নেয়।

ঢাকা লেপার্ডসের পেসার আল ফাহাদ প্রাইম ব্যাংক শিবির ধসিয়ে দেন। ৪৭ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া হাসান মুরাদ পান ৩ উইকেট। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে আজিজুল হাকিম ৭১, রায়ান রাফসান ৫৭ ও আকবর আলী ৫১ রান করেন। তাতে ভালো পুঁজি পেলেও জাওয়াদ আবরারের ৫৩, ইফতেখার হোসেনের ৪১ ও মুমিনুল হকের ৩৩ রানে লড়াইয়ে ছিল। ওভারপ্রতি রান রেট ভালো থাকায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটাও জিতে নেয় তারা। এই পরাজয়ে প্রাইম ব্যাংক লিগে হয়েছে তৃতীয়। রানার্সআপ হয়েছে আবাহনী।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন উইলিয়ামসন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন