বাংলাদেশের মানুষের বাঙালিত্ব প্রমাণের জন্য সীমান্তের ওপারে গিয়ে কলকাতা বা অন্য কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে এক করে দেখার চেষ্টা যারা করেন, তারা হয় বিষয়টি সঠিকভাবে বোঝেন না, নয়তো এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দেশ পুনর্গঠনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভাষাগত মিল থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক মনোজগৎ ও পরিচয়ের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশের মানুষের নিজস্ব পরিচয় গড়ে উঠেছে, যা অন্য কোথাও থেকে ধার করা নয়।
ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এ ভূখণ্ডের মানুষের দীর্ঘ সামাজিক ও ধর্মীয় বিবর্তন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে একটি স্বকীয় রূপ দিয়েছে। সেই স্বাতন্ত্র্য থেকেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণার বিকাশ ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয় আরও সুস্পষ্ট হয়েছে।
আঞ্চলিক রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু ভারত ও বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে একসঙ্গে বিবেচনা না করে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথাও ভাবা উচিত। তার মতে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা প্রায় ২২০ কোটি। এ বিশাল জনশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
পড়ুন: হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
আর/


