বিজ্ঞাপন

প্রবাসীর স্ত্রীকে খুঁটিতে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

শরীয়তপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক নারীকে (৩৫) মারধর ও চুল কেটে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই নির্যাতনের ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্তরা ওই নারীকে মারধরের পর মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে মুখে আলকাতরা ও জুতার মালা পরিয়ে দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌর এলাকার উত্তর পালং শাবনূর মার্কেট এলাকার বাসিন্দা দুই সন্তানের জননী ওই নারীর স্বামী প্রবাসে থাকেন। সম্প্রতি তার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরি ও তার পরিবারের। শনিবার সকালে ওই নারীকে আপোশ মীমাংসার জন্য বাড়িতে ডেকে নেন দেলোয়ার দপ্তরির পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে মনি আক্তারকে মারধর করে চুল কেটে দেন দেলোয়ার দপ্তরির ছেলে পলক, মেয়ে মৌসুমী, স্ত্রী আমেনা ও আত্মীয় রহিমা। মারধর ও চুল কাটা শেষে অভিযুক্তরা তাকে মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে মুখে আলকাতরা মেখে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি কোনও মাদক বিক্রি করি না। আপনারা চাইলে আমার মোবাইল চেক করে দেখতে পারেন। যদি কোনো প্রমাণ পান, তাহলে যেই শাস্তি হবে তা আমি মেনে নেব। দেলোয়ার দপ্তরি আমার থেকে টাকা নিয়েছে, সেই প্রমাণ হিসেবে সে নিজেই ঢাকা গিয়ে আমাকে সই করে স্ট্যাম্প দিয়ে এসেছে। এখন সেই টাকার স্ট্যাম্প ফেরত নিতে সে তার পরিবারের লোকজন দিয়ে আমাকে মারধর করেছে, চুল কেটে দিয়ে মুখে আলকাতরা মেখে বেঁধে রেখেছে। আমাকে পলক হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়েছে। আমি বাঁচতে এক বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখান টেনে টেনে এনে মারধর চালায়। আমি অন্যায় করলে তারা আইনের আশ্রয় নিত। এভাবে কেন মারল। আমি সুষ্ঠু তদন্ত করে ওদের বিচার চাই।

তবে অভিযুক্তদের দাবি, মনি আক্তার মাদক বিক্রি করেন। তাছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করে থাকেন।

দেলোয়ার দপ্তরির মেয়ে মৌসুমী আক্তার বলেন, আমরা মনি আক্তারকে ছোট থেকেই কাকি বলে ডাকি। সে আমার আব্বুকে ভাই ডেকে পরকীয়া করেছে। আজ তাকে আপোষে ডেকেছিলাম কিন্তু সে গালাগালি করায় মহিলাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।

তাকে কেন বেঁধে রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ও আমার বাবাকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তাই তাকে বেঁধে রেখেছি। সে মাদক বিক্রি করে, তাকে সার্চ করলে মাদক পাওয়া যাবে।

বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আমরা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। উনি সুস্থ হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পড়ুন- সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন