যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের মাইফাদুন এলাকায় দুটি গাড়িকে লক্ষ্য করে পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রায় একই সময়ে পার্শ্ববর্তী শৌকিন গ্রামেও আরেকটি বেসামরিক গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় ঘটনাস্থলেই অন্তত চারজন নিহত হন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দারা জানান, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা চললেও তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান আলোচনায় ইরান শুরু থেকেই একটি শর্তের ওপর জোর দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, যেকোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। ইরান মনে করে, লেবাননে চলমান হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত খসড়া সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
তবে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে শান্তি প্রচেষ্টার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবাননের যেসব অঞ্চল ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না। তার ভাষায়, চলমান দখলদারিত্ব ও সামরিক অভিযান যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলকে কঠিন ও অভূতপূর্ব জবাবের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের দাবি, লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইরান সংরক্ষণ করে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে জরুরি টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ এবং দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও জানিয়েছে, তেহরান আগামী দফার আলোচনায় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। তার এই বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ পুনরায় সীমান্ত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮২৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১১ হাজার ৮৫১ জন।
পড়ুন:নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে হঠাৎ আতঙ্ক, অর্ধশতাধিক গ্রেপ্তার
দেখুন:ই/স/রা/ই/লে/র খেলা শেষ করবে ইরান?
ইমি/


