মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তার অবহেলায় চরম সংকট পড়ে কক্সবাজারের মহাবুল্লা।একদিকে নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলা ও অমানবিকতা, অন্যদিকে কিছু মানবিক বাংলাদেশি প্রবাসীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা— এই দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করে অবশেষে দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা মহাবুল্লা (৪০)।
কক্সবাজার জেলার ভারুয়াখালীর সওদাগরপাড়ার বাসিন্দা মহাবুল্লা জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। কিন্তু স্বপ্নের সেই প্রবাস জীবন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। গত ২৬ মার্চ ২০২৬ সালে জোহর বাহরুতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করেন হাসপাতালের বিছানায়।
চিকিৎসকদের জরুরি অস্ত্রোপচার, ভেন্টিলেটর সাপোর্ট এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি হারিয়েছেন স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বেশি আঘাত পেয়েছেন মাথায় ও বাম হাতে । মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী মানুষটির পাশে দাঁড়ানো ও সব দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল তার কোম্পানির। তবে অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসা কিংবা ভরণপোষণের জন্য কোম্পানি একটি টাকাও ব্যয় করেনি। অসুস্থ ও পঙ্গুপ্রায় অবস্থায় তাকে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। বারবার যোগাযোগ করা হলেও দেয় মিথ্যা আশ্বাস।
তবে মানবতা তখনও হারিয়ে যায়নি। জোহর বাহরুতে তাঁর সহকর্মীরা নিজেদের দায়িত্বে মহাবুল্লাকে আশ্রয় দেন। আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে তার ওষুধ, খাবার এবং চিকিৎসার খরচ বহন করেন। এমনকি একজন অসহায় ও বাকপ্রতিবন্ধী মানুষের মলমূত্র পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের সব সেবা-যত্ন করে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে মহাবুল্লার করুণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন, মালয়েশিয়া তার দেশে ফেরার জন্য বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করে।
কিন্তু এই গল্পের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায়টি এখনও তার অজানা। প্রতারক নিয়োগকর্তার মিথ্যা আশ্বাসে অপেক্ষা করলেও কোন সহযোগিতা পায়নি তাঁরা।
মালয়েশিয়ায় হাসপাতালের বিছানায় যখন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছিলেন, ঠিক সেই সময় বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার গর্ভধারিনী মা লালো বেগম। মহাবুল্লার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে, পরিবারের সদস্যরা এবং তার পাশে থাকা প্রবাসী ভাইয়েরা তাকে এই সংবাদ জানানোর সাহস পাননি।
আজ তিনি দেশে ফিরেছেন বুকভরা আশা নিয়ে, হয়তো ভাবছেন মায়ের মুখটি আবার দেখবেন, মায়ের স্নেহভরা হাত মাথায় বুলিয়ে দেবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক নিষ্ঠুর। বাড়িতে গিয়ে তাকে দাঁড়াতে হবে সেই মায়ের কবরের সামনে, যার জন্য তিনি বছরের পর বছর প্রবাসে কষ্ট করেছেন।
ঢাকার এয়ারপোর্টে পৌছালে ব্র্যাক মাইগ্রেশানের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের কাছে পৌছে দিতে সহযোগিতা করে। এছাড়াও একই ফ্লাইটে জেলে থেকে ফেরত যাওয়া ২৩ রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আর্থিক সহযোগিতা করে ব্র্যাক।
পড়ুন- ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নাটকীয় মোড়, সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করলো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট


