সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিদেরকে সরিয়ে দিয়ে নিজেদের দলের একান্ত নেতাদের দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডার ও নেতাদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দেওয়া একদলীয় শাসন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিহাস ভুলবেন না। শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশাল কায়েম করেছিলো। অর্ধ বছরও থাকতে পারেনি।
তিনি বলেন, অনির্বাচিত প্রশাসক আমরা দেখতে চাই না। নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দেখতে চায় নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষ।
জামায়াতে ইসলামী, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শাখার উদ্যোগে আজ শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা মোঃ আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ সহ অন্যান্যরা।
শফিকুর রহমান বলেন, ২৪ এর জুলাইয়ের আন্দোলন হয়েছিলো বলেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। না হলে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো না। সুতরাং যাদের রক্ত এবং জেহাদের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার ও বিরোধী দল। যদি শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা এবং উপহাস করেন তবে নিজেদের সাথেই গাদ্দারি কায়েম হবে। এই সময় লড়াকু যোদ্ধাদের কেউ যেন খাটো করে না দেখেন মেহেরবানি করে।
তিনি দাবি করেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। কিন্তু জনগণের বিজয়কে অনেক জায়গায় প্রতিফলিত হয় নাই। তিনি বলেন, “ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হতো। কিন্তু জনগণের সেই বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।”
ড. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা গণভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না।”
নারায়ণগঞ্জ থেকে অবিলম্বে অনির্বাচিতদের সরিয়ে নির্বাচন দেয়া হোক দাবী করে মহানগর আমাদের আমীর আব্দুল জব্বারকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন জামাতের আমির ড, শফিকুর রহমান
তিনি আরও বলেন, “আমরা সংসদে আলোচনা করেছি, গণভোটের চর্চা যাতে হারিয়ে না যায়। মানুষের রায়কে সম্মান করুন। মানুষের রায়কে সম্মান না করলে মানুষ আপনাদের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়াবে।”
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী বন্ধুদের সাথে সমাবেশে আসার আগে কিছুক্ষনের জন্য বসেছিলাম। কি যেন একটা আতংঙ্ক তাদের মধ্যে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তাদের চোখের ভাষা ভুঝা যায় । কিন্তু ঠোটের ভাসা অস্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত একজন নিরবতা ভেঙ্গে বলেই ফেললেন আমরা ভালো নেই। এই চাদাঁবাজরা ভালো থাকতে দিচ্ছেনা। এই চাদাঁবাজ কারা কোন দলের নারায়ণগঞ্জবাসি আপনারা এদের চিনেন কিনা। দলের নেতা হয়ে বলা হবে আমরা দুর্নীাতির টুটি চেপে ধরবো। আর ঘরে ঘরে চাদাঁবাজদের লেলিয়ে দিবেন। কথার সাথে কাজের মিল নেই। আবার তারাই আমাদের খোটা দেয়।
হাজার জাাতের খোটা আমার না কি কোথায় জান্নাতের টিকেট বিক্রি করেছি। আচ্ছা আপনারা কি কোথাও কোন জান্নাতের টিকেট বিক্রি করেছেন। আপনাদের কাছে কি কেউ জন্নাতের টিকেট বিক্রি করেছে। আপনারা কেউ বিক্রি করে নাাই। আপনাদের কাছেও কেউ বিক্রি করে নাই। জান্নাতের টিকেট কারা বিক্রি করেছে যারা ইলেকশনের সময় গিয়ে বলেছে এই মার্কায় ভোট দিলে জান্নাত পাবেন। সেই ভিডিও গুলো কি হারিয়ে গেছে। কারা বিক্রি করেছেন যারা বলেছে ওমুক নেতার নাম ১শ বার জপন করলে আপনি জান্নাতে যাবেন। জামাতের ওমকু নেতা নাম বলার আগে অজু করা লাগবে।
সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সম্মেলন মঞ্চে আসতে থাকে। এসময় তারা বলেন, ইসলামী দেশ গড়তে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে জামায়াদেও বিকল্প নেই। আজ আমীরের দিক নির্দেশনা মুুলক বক্তব্য শুনতেই এসেছেন।
পড়ুন- ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এআই: রাজধানীর আরও ১২০ মোড়ে আসছে স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম


