বিজ্ঞাপন

জ্বালানি খাতকে নিরাপদ করতে উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে হবে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অমিত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। আমরা যত বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারবো আমাদের অর্থনীতি তত বেশি গতিশীল হবে। এ লক্ষ্যে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে যুব বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ ফান্ডের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি পাবে এটি আমাদের মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন


শুক্রবার যশোর মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) যশোর জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন যশোর বিসিক উদ্যোক্তা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।


অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে সরকার এবং বেসরকারি খাত যদি হাতে হাতে ধরে এগিয়ে যেতে পারে তাহলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। যশোরের নারীদের কাজের অতীত ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে একটা সময় সূচি শিল্পের সুনাম ছিলো। সময়ের বিবর্তনে, আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মা বোনেরা তালমেলাতে না পারায় পূর্বের অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ঢাকার সনাম ধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করিয়ে নিয়ে সেখানে বিভিন্ন বুটিক শপে বিক্রি করছে। কিন্তু আমাদের উদ্যোক্তরা সেই সুযোগ বেশি কাজে লাগাতে পারছেন না। আজকে ৩০ কিংবা ৩৫ বছর পূর্বে যে ডিজাইন আমরা দেখতাম এখনো সেটি দেখা যাচ্ছে। এই ডিজাইনের সমমায়িক তুলে আনতে হবে। সমাজের বিভিন্ন গল্প কথা সূচির শিল্পের মাধ্যমে তুলে আনতেন। সময়ের সাথে সাথে প্রতিটা সমাজের গল্প এবং কথা পাল্টে গেছে। এর সাথে ডিজাইনের পরিবর্তন কাম্য। মেশিনের এবং হাতের কাজের চাহিদা ভিন্ন। হাতের কাজের চাহিদা থেকে যাবে যদি সমমায়িক ভাবে আধুনিক ডিজাইন এবং ভালো কাপড়, সুতা আমাদের কর্মীদের দিতে পারি। তাহলে সুচি শিল্পের সুনাম ফিরিয়ে আনা যাবে।


তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আমি বিসিকি যশোরে গিয়েছিলাম। ড্রেনজ ব্যবস্থা এবং সড়কে নাজুক অবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তার ঝুজিতে শ্রমিকের কাজ করার দৃশ্য দেখেছি। আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বিসিকের উন্নয়নে কাজ করা। বিসিকের প্রতি বছর অগ্নীকান্ডে প্রচুর ক্ষতি গ্রস্থ হয়। এজন্য আমি অঙ্গীকার করেছিলাম এখানে একটি ফায়ার ব্রিগেডে সাবস্টেশন নির্মাণের । আমি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে বর্তমানে জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ইনশাল্লাহ দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে যশোর বিসিকে ফারার ব্রিগেডের নির্মাণ কাজ করতে সক্ষম হবো। ড্রেনজ ব্যবস্থা, রাস্তা উন্নয়ন করা যায় তার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলছি। ওই এলাকার নিরাপত্তার জন্য সড়ক নিয়মিত ভাবে জ¦ালানো এবং সমগ্র এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে। উদ্যোক্তারদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত চাই। যশোরের বিসিকের সুনাম খুলনা বিভাগে কুষ্টিয়া ছাড়া অন্য কোন বিসিকের নেই। এখানে বড় বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ জ¦ালানী নীতি গ্রহণ করেছে। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে হবে না। বিদ্যুৎ কোন উৎস থেকে উৎপাদন করছি অর্থাৎ প্রাথমিক জ¦ালানিটি কি? এটি বর্তমান বিশে^ অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মধ্যপ্রাচে বৈশি^ক সংকট আমরা উপলদ্ধি করেছি জ¦ালানি খাতকে নিরাপদ করতে এখাতে বৈচিত্র আনতে হবে। তার জন্য বর্তমান নির্বাচিত সরকার রিনিওবেল এনর্জিতে মনোনিবেশ করেছে। এ জন্য সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য আমরা বর্তমান বাজেটে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছি। যাতে করে উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারে। এখানে সরকারি স্থাপনার ছাদে রূপটপ সোলার প্যানেল স্থাপন বসাবে বিষয়টা এমন নয়, বেসরকারি খাতও এগিয়ে আসতে পারে। বিসিক যশোরের উদ্যোক্তদের যৌথ ভাবে রিনিওবেল এনার্জি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন তিনি। এ ব্যাপারে সরকারের যেটুকু নীতি সহায়তা দেবার সুযোগ আছে তার সবটুকু প্রদান করা হবে। অতীতে বিসিকের পাশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি। আমরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে কথা বলছি যাতে করে আবার প্রকল্প চালু করতে সক্ষম হবো ।


প্রতিমন্ত্রী বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে মেলার স্টল পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদেও প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সুজন সরকার, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত, যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, বিসিক যশোরের উপ মহাব্যবস্থাপক এম এনাম আহমেদ, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন , নাসিব যশোরের সভাপতি সাকির আলী প্রমুখ। উল্লেখ্য ১০ দিন ব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় ৬০ টি স্টল অংশ নিয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

পড়ুন- জামায়াত এমপিকে গুলি করার পরিকল্পনা, কলরেকর্ড ফাঁস!

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন