নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় খারনৈ ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অকৃষক ও ভুয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ও দুর্নীতির বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। অন্যদিকে, কৃষকদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে সরকারের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদীদের ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা মানববন্ধন করেছেন অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান।
শনিবার (২০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় খারনৈ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর গ্রামের কৃষকরা কলমাকান্দা-দুর্গাপুর সড়কের পালপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, বন্যায় নলগড়া, করাসাবরা, দলা বিল, মেধা বিল ও দক্ষিণাবন্দসহ বিভিন্ন বিলে তাদের শত শত একর জমির ফসল সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যায়। সরকারিভাবে দেওয়া প্রণোদনার তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম আসেনি।
কৃষক খাইরুল, দেলোয়ার হোসেন, লাভলী ও সাগর জানান, কৃষকদের অভিযোগ, বিষ্ণুপুর গ্রামের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন প্রকৃত কৃষক ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হলেও তারা অনুদান পাননি। অথচ জমি না থাকা এবং ঢাকা-চট্টগ্রামে বসবাসকারী অন্তত ১৭-১৮ জন অকৃষকের নামে অবৈধভাবে কার্ড দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বয়োবৃদ্ধ কৃষক কুদরত আলী বলেন, “আমি ৩৪ কাঠা জমিতে চাষ করেছিলাম, যার মধ্যে ২৯ কাঠা জমির ধান পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ সরকারি অনুদানের তালিকায় আমার নাম নেই। যারা জীবনে কোনোদিন কৃষিকাজ করেনি, শুধু আত্মীয়তা ও রাজনৈতিক দলাদলির কারণে তাদের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।”
কৃষকদের আরও অভিযোগ, জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির প্রতিকার চেয়ে তারা কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, মাহবুব, শাহজাহান কবির এবং রিপন মিয়াসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন এবং নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। কৃষকরা অবিলম্বে জালিয়াতির তালিকা বাতিল করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনা নিশ্চিত করা এবং হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সাহায্য পাঠালেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দুর্নীতির কারণে প্রকৃত কৃষকরা সেই সুফল পাচ্ছেন না। অবিলম্বে বর্তমান জালিয়াতির তালিকা বাতিল করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনা নিশ্চিত করা এবং হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
এদিকে কৃষকদের মানববন্ধনের কয়েক ঘণ্টা পর একই বাজারে পাল্টা মানববন্ধন করেন খারনৈ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক। তিনি কৃষকদের আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে এই আন্দোলনকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চক্রান্ত হিসেবে দাবি করেন।
এসময় মো. ওবায়দুল হক বলেন, “সরকারের মহৎ কাজগুলোকে নস্যাৎ করতে এবং মানুষের কাছে সরকারকে বিতর্কিত করতে ‘বটবাহিনী’ বা ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী কাজ করছে, যারা মূলত ফ্যাসিবাদের দোসর। এই নেতিবাচক গোষ্ঠীই প্রতিটি ইউনিয়নে নানা রকম মানববন্ধন ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।” তিনি নিজ দলের একাংশের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, দলের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল, যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে, তারাও এই ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পড়ুন- রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন জমি চায় জাতিসংঘ, নাকচ করলো বাংলাদেশ


