পিরোজপুরে মাদকের বিস্তার রোধে করণীয় নির্ধারণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “মাদকের বিস্তার রোধে আমাদের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) পিরোজপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে এবং জেলা পরিষদের পার্টনারশিপে সদর উপজেলা মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতার কারণেই আজ মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং প্রশাসন—আমরা কেউই এই দায় এড়াতে পারি না।”
তিনি বলেন, “আমরা হয়তো দেরিতে হলেও উপলব্ধি করতে পেরেছি যে মাদকের বিস্তার কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখন সময় এসেছে সম্মিলিতভাবে কাজ করে পিরোজপুরকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করার। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত পিরোজপুর গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মাদকই বর্তমানে সমাজের নানা অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ। কিশোর গ্যাং, হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব রয়েছে। মাদকের কারণে পারিবারিক বন্ধনও ভেঙে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে নৈতিক অবক্ষয়।
পিরোজপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম রেজাউল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পান্না লাল রায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত এবং দি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক যুবসমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় হুমকি। মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ পিরোজপুর প্রেস ক্লাবের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সামাজিক আন্দোলনই মাদক নির্মূলে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আজ যারা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন, তাদের সংখ্যা অচিরেই হাজার ছাড়াবে বলে আমি আশাবাদী। সমাজ যখন ঐক্যবদ্ধ হবে, তখন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা স্বাভাবিকভাবেই কোণঠাসা হয়ে পড়বে।”
সভায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : রক্তের দাগ না শুকাতেই ফ্যাসিবাদী চক্র আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: সালাউদ্দিন টুকু


