বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়াকে টি-টোয়েন্টিতে হারানো সহজ হবে না তা আগে থেকে জানত বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া কতোটা শক্তিশালী রূপে ধরা দেবে সেটাই ছিল প্রশ্ন। সেই উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুড়ে ছারখার হলো স্বাগতিক দল। ৫৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বড় জয়ে টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ করল অজিরা।

ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারের বদলা অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে নিল। শুধু তাই নয়, পাঁচ বছরের জমানো ক্ষোভও ঝারল তারা। ২০২১ সালে বাংলাদেশে এসে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার বাংলাদেশকে উড়িয়ে সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিল মিচেল মার্শের দল।

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশ আরও বিবর্ণ, আরও এলোমেলো। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১০৯ রান তুলতে পারে। জবাব দিতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের বন্দরে যেতে সময় লাগে মাত্র ১১ ওভার। ৭ উইকেটের জয়ে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রানে জিতেছিল অসিরা। শেষ ম্যাচে জয়ের ব্যবধানটাকে আরও বড় করে নিজেদের শক্তির জানান বেশ ভালোভাবেই দিল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং স্রেফ ডুবিয়েছে। প্রত্যেক ব্যাটসম্যান উইকেটে গিয়েছেন আর ফিরেছেন। ছিল না কোনো দায়িত্ববোধ। ছিল না লড়াই করার মানসিকতা। শট খেলেছেন অনায়েসে। তাতে ডেকেছেন বিপদ। উইকেটের বৃষ্টিতে স্কোরবোর্ড যেন থমকে গিয়েছিল। রান করা নয়, উইকেট হারানোর প্রতিযোগিতাই যেন করছিলেন ব্যাটসম্যানরা।

স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় যা করার করেছেন। ৫১ বলে ৩টি চার ও ছক্কায় ৬১ রান করেন। এছাড়া রিশাদ হোসেন কেবল ১৬ রান করেন। বাকিরা কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেননি। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে স্কোরবোর্ডে রান মাত্র ২২। উইকেট নেই ৩টি। দলের অর্ধেক ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন ৩৬ রানে। তানজিদ (৫), সাইফ (১), পারভেজ (১), নুরুল হাসান (৬) ও শামীম (০) উইকেটে গিয়েছেন আর ফিরেছেন।

ষষ্ঠ উইকেটে খানিকটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তাওহীদ ও রিশাদ। ২০ বলে ২৬ রান যোগ করেন তারা। নিখিল চৌধুরীর বলে রিশাদ ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরলে বাংলাদেশ আবার বিপদে পড়ে। সেখান থেকে তাওহীদের একার লড়াইয়ে বাংলাদেশের রান কোনোমতে একশ পেরিয়ে যায়। মান বাঁচে। তাওহীদ ৪১ বলে তুলে নেন টি-টোয়েন্টির সপ্তম ফিফটি। কিন্তু তার একার লড়াই বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

আগের ম‍্যাচে ২ ওভারে ৩৯ রান দেওয়া পেসার স্পেন্সার জনসন এবার ৪ ওভারে ৬ রানে নিলেন ২ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪ ওভারে সর্বনিম্ন রান ছিল ড‍্যানিয়েল ভেটরির। নিউ জিল‍্যান্ডের বাঁহাতি এই স্পিনারের বোলিং ফিগার ছিল ৪-১-৬-৩। দুটি করে উইকেট নেন ন‍্যাথান এলিস ও অ‍্যাডাম জ‍্যাম্পা।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৫৪ বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নেয়। ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মার্শ। ৭ চার ও ৪ ছক্কায় অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ২৮ বলে করেন ৬০ রান। এছাড়া জস ইংলিশ ১৭, কোনোলি ১৫ এবং শেষে টিম ডেভিড ৩ বলে ২ ছক্কায় ১২ রান তুলে দ্রুত জয় নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : অস্ট্রেলিয়াকে ১১০ রানের লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন