বিজ্ঞাপন

মাদক নির্মূলে পরিবার ও সমাজের সমন্বিত আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে- জেলা প্রশাসক

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, মাদক নির্মূলে কেবল রাষ্ট্রীয় আইন বা একক কোনো সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে পরিবারকে। সন্তানের গতিবিধি, তার বন্ধুবান্ধব এবং আচরণের পরিবর্তনের দিকে অভিভাবকদের তীক্ষè নজর রাখা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

আজ রবিবার (২১ জুন) দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সমাজে নৈতিক, সামাজিক, গণতান্ত্রিক, উদার ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ এবং ইতিবাচক সামাজিক চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে ‘মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

অভিভাবকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে এবং কেন অস্বাভাবিক আচরণ করছে এসব বিষয়ে বাবা-মাকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষকরে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্তানদের তদারকি করা এবং তাদের সাথে সময় কাটানোর পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি স্কুল-কলেজে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন এবং নিয়মিত কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক সভা আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের, বিশেষ করে মসজিদের ইমামদের এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। জুমার খুতবায় মাদকের কুফল সম্পর্কে আলোচনা এবং এলাকায় মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের সংশোধনের জন্য সামাজিক চাপ তৈরি করতে হবে। এজন্য জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। সমাজ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের বয়কট করা এবং তাদের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যদি পরিবার থেকে তদারকি শুরু হয় এবং সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে মাদককে ‘না’ বলে, তবেই একটি মাদকমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষ তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করবে এবং সকলকে মাদক কারবারিদের ভয় না পেয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান, সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বেলায়েত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন- ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিলেন জিয়াউল আহসান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন