বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈরে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের বন বিভাগের ৭০ শতাংশ জমি উদ্ধার

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মন্ডলপাড়া এলাকায় বন বিভাগের প্রায় ৭০ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জমিতে তাৎক্ষণিকভাবে ৭০০টি বনজ ও ফলজ চারা রোপণের মাধ্যমে বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে বন বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২২ জুন) সকালে কালিয়াকৈর রেঞ্জের চন্দ্রা ফরেস্ট অফিসার ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় সহকারী বন সংরক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম শাকিলসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু গোডাউন মালিক ও ব্যবসায়ী অবৈধভাবে বন বিভাগের জমি দখল করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। এ সময় গজারি গাছ কেটে ফেলার ফলে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশের উদ্ধারকৃত জমিতে উচ্ছেদের পরও প্লাস্টিক, পাটের বস্তা ও অন্যান্য বর্জ্যের স্তূপ পড়ে রয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকরা জমি পরিষ্কার করে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণের কাজ করছেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জমি দখলমুক্ত করার পর সেখানে ৭০০টি বনজ ও ফলজ চারা রোপণ করা হয়েছে। চারাগুলো রক্ষায় জমির চারপাশে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজও চলছে, যাতে গবাদিপশু বা পুনরায় দখলকারীরা ক্ষতি করতে না পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “এই জায়গাটি আগে গজারি বনে পরিপূর্ণ ছিল। পরে গাছ কেটে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। চারপাশে ময়লা-আবর্জনা থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াত। এখন বন বিভাগ জমি উদ্ধার করে গাছ লাগাচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ।”

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, গজারি বন ধ্বংসের কারণে এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে ৭০০টি চারা রোপণের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এলাকাটি আবারও সবুজে ভরে উঠবে।

সহকারী বন সংরক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম শাকিল বলেন, “সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা বনভূমি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। মন্ডলপাড়ার ৭০ শতাংশ বনভূমি দখলমুক্ত করে সেখানে ৭০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ বনভূমি দখল বা বনায়ন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত জমি সুরক্ষায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল দেওয়া হবে এবং স্থায়ীভাবে সীমানা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বনভূমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পড়ুন- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন