দক্ষিণ লেবানন থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চাপের মুখে তেল আবিব এই পদক্ষেপ বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে ইসরায়েলের ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহার করা হোক এবং পরবর্তীতে ওই এলাকার দায়িত্ব লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হোক। এই প্রেক্ষাপটেই ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কান সোমবার (২২ জুন) জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের সেনাবাহিনীর জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রাথমিক বিষয়গুলো নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইসরায়েলের তিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের কাজও শুরু হয়েছে।
তবে এই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিরোধিতা রয়েছে। দেশটির নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে তা ইসরায়েলের দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিতে পারে এবং এতে হিজবুল্লাহ লাভবান হবে।
হিব্রু সংবাদমাধ্যম মাআরিভ জানিয়েছে, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। ওয়াশিংটন বিষয়টিকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর কূটনৈতিক সমীকরণ—হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি তেলের বাজার, ইরানের পারমাণবিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখছে।
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সূত্রপাত হয় সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৮ ঘণ্টার আলোচনার পর। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই আলোচনায় ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর কিছু অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যার লক্ষ্য ছিল লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
এরই মধ্যে লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই কমিটিতে ইরান ও কাতারকে রাখা হলেও ইসরায়েলকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, ইরানের সম্পৃক্ততার কারণে তদারকি প্রক্রিয়া থেকে ইসরায়েলকে দূরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন ইসরায়েলকে লেবাননে ইচ্ছামতো সামরিক অভিযান পরিচালনার আগের মতো স্বাধীনতা না রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।
লেবাননের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—যার কিছু অংশ দীর্ঘদিনের দখলে এবং কিছু অংশ সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন সময়ে দখল করা হয়েছে।
পড়ুন:চীন থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান ক্রয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ!
আর/


