মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামে একটি মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে পুকুরে বিষ ঢেলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি কামরুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে বিষয়টি প্রথমে স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে মাছচাষি কামরুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে দেখেন, তার পুকুরজুড়ে শত শত পাঙ্গাস মাছ মৃত অবস্থায় ভাসছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুজ্জামান প্রায় তিন বিঘা আয়তনের পুকুরে গত দুই বছর ধরে পাঙ্গাস মাছ চাষ করে আসছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে পরিচর্যার ফলে প্রতিটি মাছের ওজন ৭ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত হয়েছিল। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই মাছগুলো বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু এর আগেই বিষ প্রয়োগের ঘটনায় তার সব স্বপ্ন ভেঙে যায়।
ক্ষতির পরিমাণ কমাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুর থেকে মাছ তুলে বিক্রির চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ মাছ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় দ্রুত পচন ধরতে শুরু করে। ফলে সেগুলো বিক্রি করাও সম্ভব হয়নি। এতে তার প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী মাছচাষি।
কামরুজ্জামান জানান, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলতে না পারলেও পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন পরিশ্রমী মাছচাষির সর্বস্ব ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগেরও তদন্ত করা প্রয়োজন।
পড়ুন : কালিয়াকৈরে শাহীন স্কুলে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ


