ঝিনাইদহ জেলাব্যাপী মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামেগঞ্জের তরুণ, যুবক, কিশোর, এমনকি শিশুরাও এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেই ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ ও পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। র্যালিতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোঃ আশিস হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোজাম্মেল করিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মিথিলা ইসলাম ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালম শেখ মোঃ হাশেম আলীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেন।
এদিকে মুক্ত দেশ চাই, সোনার বাংলা গড়তে চাই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগ। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে এই কর্মসূচীতে সংগঠনটির জেলা নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন, শহর শিবিরের সভাপতি শেখ আল আমিন, যুবনেতা মেহেদী হাসান রাজু, শহর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি আসাদুজ্জামান আল মাহবুব এবং সদর উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি নাজমুল হোসেন।
বক্তারা বলেন, মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। এই মরণব্যাধি নির্মূলে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, মাদকের মূল ডিলার ও গডফাদাররা বরাবরই অধরা থেকে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মাঝে খুচরা কারবারিদের আটক করলেও তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নামে একটি সরকারি দপ্তর থাকলেও, মাদক নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে মাদক চোরাচালান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।
পড়ুন : বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ উদ্ধার: প্রবাসীর মুখে হাসি ফেরাল আনসার সদস্যরা


