সিরাজগঞ্জে জার্মান প্রবাসীকে মারপিট ও জোরপূর্বক কৃষি জমি দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১ টায় জেলার কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মুগবেলাই গ্রামের এ ঘটনা ঘটেছে। আহত জার্মান প্রবাসী মো. রেজাউল হক মিয়া (৬০) ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মুগবেলাই গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে মো. রেজাউল হক মিয়া তার নিজস্ব জমি দেখতে যায়। এসময় তিনি দেখতে পায়, তার নিজের ক্রয়কৃত কৃষি জমিতে বেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটছে। ঐ সময় তিনি বাঁধা দিলে তার আপন ভাতিজা ও ভাইয়ের বৌ এর লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারপিট করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ থেকে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত রেজাউল হক মিয়া বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের কারণেই আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি ১৯৭৭ সাল থেকে জার্মান থাকি। আমি মুগবেলাই মৌজার জেএল নং-২৬, আরএস খতিয়ান-৩৮৪, দাগ নং-৩৫২, ৪০১,৪০২ ৩৯ শতক জমি ক্রয় করি। সেই জমি আমার আপন ভাবী ও ভাতিজারা জোরপূর্বক দখল করে নেয়। পরে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালত আমার মামলা কারণে গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে মামলাটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজার রাখার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু আমার ভাবী ও ভাতিজারা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কৌশলে স্থানীয় ক্ষমতাশীনদের নিকট টাকা নিয়ে মাটি ভরাট করার জন্য দিয়ে দেয়।
পরে আমি বিষয়টি জানতে পেরে কামারখন্দ উপজেলার ইউএনও ও সহকারি পুলিশ সুপার কামারখন্দ সার্কেলকে ফোন দিয়ে অবগত করি। পরে তিনি ঘটনাস্থলে কামারখন্দ থানার উপপরিদর্শক মোজাম্মেলকে পুলিশ পাঠিয়ে দেয়। আমি পুলিশের সাথে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় শাহআলমসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন যুবক আমাকে মারপিট করে।
প্রবাসী রেজাউল হক মিয়া আরো বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, অথচ দেশে ফিরে আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে এভাবে হেনস্তা ও হামলার শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কৃষি জমিতে মাটি ফেলা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
প্রত্যক্ষদর্শী কামারখন্দ থানার উপপরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিবাদীদের সাথে কথা বলে আদালতের নির্দেশ মানার জন্য বলা হয়েছে। মারপিটের বিষয়টি আমি জানি না। তবে এলাকাবাসী নিকট থেকে শুনতে পেরেছি, তাকে মারপিট করা হয়েছে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী জানান, এটি জমি-জমার ব্যাপারে। জমি-জমার ব্যাপারে থানা পুলিশের কোন কিছু করার নেই। এ বিষয়টি ভুমি সহকারী কর্মকর্তা দেখছেন। তিনি আরো জানান, মারপিটের বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কামাখরন্দ উপজেলার সহকারী কর্মকর্তা (ভুমি) আব্দুল্লা আল মামুন জানান, অভিযোগ পাওয়া পর ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কৃষি জমিতে মাটি ভরাট বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনুাগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন:রুয়েটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন রাসিক প্রশাসক
দেখুন:১ জুলাই ২০২৪: যে আন্দোলন বদলে দিলো বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ!
ইমি/


