জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট এবং রান্নার বাড়তি খরচের মধ্যে বিকল্প প্রযুক্তির সন্ধানে ব্যস্ত সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রামের এক স্থানীয় উদ্ভাবকের তৈরি পরিত্যাক্ত মোবিল ব্যবহার করে একটি চুলা তৈরি করেছেন।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উদ্ভাবকের দাবি, স্বল্প খরচে দীর্ঘ সময় রান্না করা সম্ভব এই চুলায়।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই বাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।পেশায় একজন চা দোকানী। দীর্ঘদিন ধরে কম খরচে রান্নার উপযোগী বিকল্প প্রযুক্তি খুঁজছেন তিনি।অবেশেষে তৈরি করেছেন গ্যাসের বিকল্প চুলা মোবিল চুলা।কম কম খরচে চুলা বানিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। উদ্ভাবিত চুলাটি বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ব্যবহারে আগ্রহ বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে এর কার্যকারিতা দেখছেন।
রিয়াজুল ইসলাম জানান, চুলাটির সঙ্গে রয়েছে রেগুলেটর, এয়ার কুলার ফ্যান এবং ব্যাটারি।এটি বিদ্যুতের সাহায্যেও চলে। বিশেষ ব্যবস্থায় ফ্যানের মাধ্যমে বাতাস সরবরাহ করা হলে চুলার ভেতরে ফোটা ফোটা মবিল ছড়িয়ে পড়ে ও আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এতে অল্প জ্বালানিতে বেশি তাপ উৎপন্ন হয় এবং রান্নার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান,পরিত্যক্ত মোবিল সংকট হলে সমস্যা নেই।লাকড়িও ব্যবহার করা যায়। চুলাটিতে ছোট ছোট করে লাকড়ি কেটে চুলার কাজে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বা ফোটা মোবিলও জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। তার দাবি,এক টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা চুলা ব্যবহারে প্রয়োজন হয় মাত্র ২ লিটার মোবিল। এতে জ্বালানি ব্যয় হয় প্রায় ১২০ টাকা।গ্যাসের তুলনা অধিক সাশ্রয় হয় বলে জানান তিনি।
মোবিল চুলা তৈরিতে সম্পূর্ণ সেট বাড়িতে তৈরি করা সম্ভব।স্থানীয় বাজারে রডের তৈরি প্রয়োজন মত স্টাকচার তৈরি, ইয়ারকুলার ফ্যান, ২ ফুট মোবিল ভেন্টিগার কিনেও পরিপূরণ চুলা তৈরি করা সম্ভব।এতে মোট ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হয়। যা একটি গ্যাসের চুলার দামের তুলনায় কম,ব্যবহারে খরচ কম ও বেশি তাপ পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
চুলাটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ফারুক জানান, বর্তমানে গ্যাস, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প এই চুলাটি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির যা মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। জ্বালানি সাশ্রয় এবং কম খরচে রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এটি ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ইলেকট্রনিক্স ও বিভাগীয় প্রধান (১ম শিফট) মোঃ ফিরোজ আলম জানান,মবিল একটি দাহ্য পদার্থ।এটি ব্যবহারের পর ইন্জিনের ক্ষয়ীত অংশ ও পরিত্যাক্ত মবিলের ডাষ্ট মিশ্রীত হয়ে আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে।তবে এটি পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী নাকি ক্ষতির কারন সে বিষয়টি জানা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দীন জানান,ব্যবহৃত মোবিল বা বর্জ্য তেল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহারের আগে পরিবেশগত প্রভাব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম এর সহকারি পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম জানান, নিরাপদ ব্যবহারের জন্য বিশেষ বার্নার, ফিল্টারিং ব্যবস্থা ও পদ্ধতির প্রয়োজন। তাই এটিকে শিল্প কারখানায় ও অনুমোদিত পুণঃ প্রক্রিয়াজাতকরন ব্যবস্থায় ব্যবহার করা অধিক শ্রেয়।
পড়ুন : সিরাজগঞ্জে জার্মান প্রবাসীকে মারপিট, জোরপূর্বক কৃষি জমি দখল করে মাটিভরাট


